স্বজাতিকে হত্যায় মানুষের চেয়েও এগিয়ে হিংস্র এই প্রাণীরা
ODD বাংলা ডেস্ক: সমগ্র পৃথিবীতে কতটি স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে তার সঠিক তথ্য এখনো করা সম্ভব হয়নি। তবে ২০১৫ সালের এক হিসাব মতে ভারতে এর সংখ্যা প্রায় ১৩৮ প্রজাতি। ট্রায়াসিক যুগের শেষে প্রায় ২২ কোটি বছর পূর্বে প্রকৃত স্তন্যপায়ীদের আবির্ভাব ঘটে।
স্তন্যপায়ী প্রাণী বলতে সাধারণত মাতৃপ্রাণীর স্তন্যদুগ্ধ পান করে জীবনধারণকারী প্রাণীসমূহকে বোঝানো হয়। এরা কর্ডাটা পর্বের অন্তর্গত ম্যামালিয়া শ্রেণীর অধীনে উন্নত গঠনের মেরুদণ্ডী প্রাণী। ১৭৫৮ সালে ক্যারোলাস লিনিয়াস স্তন্যপায়ী বলতে ম্যামাল শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে এসেছে।
এমনই বেজি জাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণী মিরক্যাট। আফ্রিকা মহাদেশের বতসোয়ানার কালাহারি মরুভূমি, নামিবিয়ার নামিবিয়া মরুভূমি, দক্ষিণ এঙ্গোলা এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় এদের দেখতে পাওয়া যায়। মিরক্যাটরা সচরাচর দলবদ্ধ হয়ে থাকতে পছন্দ করে। এদের একটি দলে প্রায় ২০ থেকে ৫০টি মিরক্যাট থাকতে পারে।
কৃত্রিম পরিবেশে এরা প্রায় ১২ থেকে ১৪ বছর বাঁচলেও বন্য পরিবেশে এর অর্ধেক বাঁচে। বন্য পরিবেশে মিরক্যাটরা গর্তে বসবাস করে। এদের গর্তগুলো অনেক গর্তের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং একের অধিক বহির্গমন পথ থাকে। সচরাচর দিনের বেলা খাবার খোঁজার সময়ই কেবল এরা গর্ত থেকে বের হয়।
মিরক্যাটরা সামাজিক প্রাণী এবং গোত্রে বসবাস করে। গর্তের বাইরে এরা শিকারী প্রাণীদের থেকে রক্ষা পেতে অনেক সজাগ থাকে। দলের বাকি সদস্যরা যখন খাবার খুঁজতে থাকে তখন আশেপাশে থাকা কয়েকটি মিরক্যাট দুই পায়ে ভর দিয়ে চারদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখে।
তাদের খাদ্য
মিরক্যাটরা মূলত পতঙ্গভোজী তবে সাপ, গিরগিটি, বিছে, মাকড়সা, বিভিন্ন প্রাণীর ডিম এবং গাছপালাও এদের খাদ্য তালিকায় থাকে। কিছু বিষাক্ত প্রাণীর বিষ যেমন- কালাহারি মরুভূমির বিষাক্ত কাকড়া বিছার বিষ এদের শরীরে কাজ করে না।
মানুষের মতো মিরক্যাটদের শরীরে মেদ সঞ্চয় করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এরা শক্তি জমিয়ে রাখতে পারে না। তাই প্রতিদিনই এদের খাদ্য সংগ্রহের জন্য বের হতে হয়। খাদ্য সংগ্রহের জন্য এরা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই এদের উচ্চতারও বেশি গভীর মাটি খুঁড়তে পারে।
মিরক্যাটদের প্রজনন
মিরক্যাটরা এক বছর বয়স থেকেই যৌন প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে। মাত্র এক বছরেই তিন থেকে পাঁচটি বাচ্চা দিতে সক্ষম। মোটামুটি তিন সপ্তাহ বয়স হলেই এরা বাচ্চাদের গর্ত থেকে বের করে এবং দলের বাকি সবাই দাঁড়িয়ে থেকে এদের পাহারা দেয়। এক মাস বয়স হওয়ার আগে বাচ্চা মিরক্যাটরা খাবারের সন্ধানে বের হয় না। এক মাস পর বয়োজ্যেষ্ঠ মিরক্যাটরা বাচ্চাদের শিকার করা শেখায়।
মানুষের চেয়েও বেশি খুন হয় এই প্রাণী
সমগ্র পৃথিবীতে প্রায় প্রতিদিনই মানুষ নানা কারণে অন্যজনকে হত্যা করছে। তবে জানেন কি? পৃথিবীতে মানুষই একমাত্র প্রাণী নয়, যে স্বজাতির হাতে খুন হয়। স্পেনের হোসে মারিয়া গোমেজের নেতৃত্বে একদল গবেষণাকারী দিয়েছেন নতুন এক তথ্য।
একই প্রজাতির অন্য কোনো সদেস্যের দ্বারা সৃষ্ট মৃত্যু নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখেন তারা এই অদ্ভূত ঘটনা। যে মিরক্যাটই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে খুনি স্তন্যপায়ী প্রাণী। যারা একে অপরকে হত্যা করে। যার পরিমাণ ১৯.৪ শতাংশ।
ভুক্তভোগীর বেশিরভাগই শিশু মিরক্যাট। নেচার গবেষণারর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একে অপরকে হত্যাকারী স্তন্যপায়ীদের মধ্যে ২য় স্থানে রয়েছে সুচমিডেটস জিওনোন। তারা ১৮.২ শতাংশ হারে একে অপরকে হত্যা করে।
১৬.৭ শতাংশ হার খুনের পরিমাণ নিয়ে ৩য় অবস্থানে আছে রেড ফ্রন্টেট লেমুর। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের সামুদ্রিক সিংহ ১৫.৩ শতাংশ, দীর্ঘ লেজ বিশিষ্ট কাঠবিড়ালি জাতীয় প্রাণী ১৪.৫ শতাংশ, ধূসর নেকড়ে ১২.৮ শতাংশ হারে একে অন্যকে খুন করে। এদের থেকে অনেক শতাংশ হারে পিছিয়ে রয়েছে মানুষের নাম।





Post a Comment