স্পুনবিল : জলকে ঘিরেই যে পাখির গল্প
ODD বাংলা ডেস্ক: হঠাৎ করে জলের নিচ থেকে ভেসে ওঠে তাদের মাথা। পর মুহূর্তে শরীর। বুনোহাঁসের মতো আকার আকৃতির পাখি এরা। তবে ঠিক হাঁস নয়। চলাচল ও জলে সাতার কাটার কৌশল অনেকটাই হাঁসের মতো। এদের ঠোঁট চামচের মতো। চোখজোড়া লাল। মাঝখানে শুধু কালো একটা বিন্দু। এ পাখির নাম স্পুনবিল।
স্পুনবিলের বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘প্লাটেলিয়া মাইনর’। উচ্চতা ষাট থেকে তিরাশি সেন্টিমিটার। আর ওজন মাত্র দেড় কেজির মতো। তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ জলাভূমি স্যাংগুয়েনে শীতকালে দেখা যায় এ জলচর পাখিগুলোকে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে এদের বসবাস। এরা উড়তে যেমন সুপটু, তেমনি সাঁতারেও সুদক্ষ।
পৃথিবীতে যতো জলচর পাখি রয়েছে, এদের ভেতর শুধু এ স্পুনবিল জলে দ্রুতগতিতে দৌড়াতে পারে। দেখলে মনে হবে যেন দ্রুতগতিতে জলে হেঁটে যাচ্ছে ওরা। আমরা যেভাবে স্বচ্ছন্দে মাটিতে হেঁটে থাকি, এদের জলের ওপর হাঁটাহাঁটিও তেমনি স্বাভাবিক।
এরা দল বেঁধে চলে। আর জলে তাক লাগানো ছুটে চলায় তো জুড়ি নেই। সাধারণত ছোট ছোট মাছ এদের প্রধান খাবার। জলের নিচে ডুব দিয়ে থাকতে পারে অনেকক্ষণ। ফলে মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ও শামুক শিকার সহজ হয় এদের।
স্পুনবিলের ডাক অনেকটা ঝিঁঝিঁ পোকার মতো। ক্রী ক্রীট। ছন্দময় ভঙ্গিতে ডাকে এরা। বাসা বাঁধে জলের ওপর। জুটি বাঁধা মেয়ে আর পুরুষ পাখি মিলে জলজ আগাছা দিয়ে ভাসমান বাসা তৈরি করে জলে। সাধারণত জলের নিচ থেকে তুলে আনে বাসা তৈরির এ উপকরণ।
জুন মাসের শুরুতে বাসা তৈরির ধুম পড়ে যায়। মেয়ে স্পুনবিল তিন থেকে চারটে নীলচে ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার ঘণ্টা কয়েকের মধ্যে ডিমগুলো ধবধবে সাদা হয়ে যায়। জুটি হিসেবে এ পাখির টিমওয়ার্ক খুবই চমৎকার। বাসা তৈরি, ডিমে তা দেয়া আর বাচ্চা লালন-পালনে নারী-পুরুষ দুটোই সমান কাজ করে থাকে।
সপ্তাহ তিনেক পালাক্রমে ডিমে তা দেওয়ার পর ছানা বেরিয়ে আসে। ছানাগুলো তখন এ পাখির বিশেষ এক থলেতে আশ্রয় নেয়। পাখির পাখা আর পিঠের পালক দিয়ে তৈরি হয় এ থলে। ডিম ফুটে সব বাচ্চা বেরিয়ে ওই থলেতে উঠে এলে বাসা ফেলে জলে নেমে আসে পুরো পরিবার। এসময় মা আর বাবা পাখি ছানাগুলোর ভাসমান বাসা হিসেবে কাজ করে।
বাবা পাখিটি ডুব দিয়ে ছোট ছোট মাছ ধরে এনে ছানাগুলোর মুখে তুলে দেয়। তাইওয়ান ছাড়াও চীন, ম্যাকাও, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাগর উপকূলে এখন পর্যন্ত ছয়শ তেরোটা স্পুনবিল টিকে রয়েছে। এ পাখির বিলুপ্তির বিষয় নিয়ে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এখন বড়ই চিন্তিত।





Post a Comment