ব্যয়বহুল যেসব উড়োজাহাজ তৈরি করাই ছিলো বৃথা


 ODD বাংলা ডেস্ক:
   মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতেই আবিষ্কার হয়েছিল চাকা। এর ব্যবহার বাড়াতেই তৈরি হয় গাড়ি। এরপর মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এ তো গেল দেশের ভেতরের কথা। এক দেশ থেকে অন্যদেশে যেতে জলপথের পাশাপাশি আকাশপথই বেশি সহজ। 

১৯০৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রথম নিয়ন্ত্রিত, শক্তিসম্পন্ন এবং বাতাসের চেয়ে ভারী ও মানুষ-বহনযোগ্য উড়োজাহাজ তৈরি করেন দুই মার্কিন প্রকৌশলী। রাইট ভ্রাতৃদ্বয়, অরভিল আর উইলবারের উড়োজাহাজ আবিষ্কারের কথা তো সবাই জানেন। তবে বিশ্বে বিভিন্ন সময় এমন কিছু উড়োজাহাজ তৈরি হয়েছে যেগুলো শুধু ব্যর্থতার ভাগিদার। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যবহারকারী সবাইকেই লোকসান গুনতে হয়েছে এর জন্য।


নির্মাতাদের আশার গুড়ে বালি ঢেলে দিয়েছে পুরোই। অত্যন্ত আধুনিক পদ্ধতিতে আর ব্যয়বহুলভাবে তৈরি করা হলেও কোনো কাজেই আসেনি এগুলো। এমনই কয়েকটি ব্যয়বহুল উড়োজাহাজের কথা থাকছে আজকের লেখায়। চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব উড়োজাহাজগুলোর সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য-   

 

১৯৩৭ সালে আইরাকুডা চালু হয়। এর উদ্ভাবনী নকশা এবং বৈশিষ্ট্যগুলো দেখে সবারই প্রত্যাশা ছিল এটি একটি দুর্দান্ত উড়োজাহাজ হবে। এর ইতিবাচক দিকগুলোর একটি হলো এর ইঞ্জিন এবং এতে থাকা বন্দুকের ব্যবস্থা। এই উড়োজাহাজটি একটি যুদ্ধ জেট উড়োজাহাজ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। তবে চালু হওয়ার পর দেখা যায়, উড়োজাহাজের ইঞ্জিন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। এরপর এতে থাকা বন্দুক ছুড়লে অতঃপর পুরো জেট উড়োজাহাজটি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। ব্যবহার অনুপোযোগী হওয়ায় এরপর থেকে উড়োজাহাজটি পড়ে থাকে।


অনন্য এক ডিজাইনের কারণে বিশ্বব্যাপী কাটলাস সুপরিচিত হয়ে ওঠে। এই উড়োজাহাজের কোনো লেজ ছিল না। অন্যান্য উড়োজাহাজের চেয়ে দেখতে অনেকটা ভিন্ন ছিল কাটলাস। তবে উড়োজাহাজটি দেখতে যতটা আকর্ষণীয় ছিল ঠিক ব্যবহারগত দিক থেকে ততটাই ত্রুটিযুক্ত ছিল। এই উড়োজাহাজটি তার সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছে বাতাসে ভেসে থাকতে না পারায় বিধ্বস্ত হয়। সফলভাবে টেক অফ করার ২৫ শতাংশ সময় আগেই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়েছিল। 


এই উড়োজাহাজটি তৈরি করা হয়েছিল কেবলমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো জায়গায় ব্যবহার করার জন্য। ৫০ এর দশকে, বিপজ্জনক জেনেও অন্য একটি উড়োজাহাজের সঙ্গে এটিকে যুক্ত করা হয়। এর ফলাফল ঘটে মারাত্মক। যতবারই সেই উড়োজাহাজ আকাশে উড়ার চেষ্টা করেছে ততবারই বিপদের মুখে পড়েছে।  


পোল্যান্ডে তৈরি করা পিজেডএল এম-১৫ বেলফিগোর ছিল প্রথম বাইপ্লেন। এই উড়োজাহাজটি ১৯৭২ সালে নির্মিত হয়। জেট উড়োজাহাজে যেসব ফিচার থাকে সবই ছিল এই বাইপ্লেনে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই উড়োজাহাজটি ব্যবহারগত দিক থেকে বেশ দূর্বল থাকায় পুরো পরিশ্রমই বৃথা গিয়েছিল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের। 


অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ড এবং লকহিড মার্টিন ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এই উড়োজাহাজ বাজারজাতকরণ শুরু করেন। এই উড়োজাহাজটি এতটাই অনন্য ছিল যে, রাষ্ট্রপতির পরিবহণ হিসেবেও এটি ব্যবহার করার জন্য নিযুক্ত হয়েছিল। দুর্ভাগ্যক্রমে, উড়োজাহাজটির মূল্য কয়েক বছর পরে ৬.১ বিলিয়ন ডলার থেকে ১১.২ বিলিয়ন ডলারে চলে যায়। যা একেবারেই বাস্তবসম্মত ছিল না। অন্যদিকে ব্যবহারগত দিক দিয়েও এটি উন্নত ছিল না।


১৯৪৭ সালে চক ইয়েগার যখন বেল এক্স-১ আবিষ্কার করেন, তখন অন্যরা এটির অনুরূপ একটি উড়োজাহাজ তৈরির কথা বলেন। তার অনুরূপেই তৈরি হয় ব্রিস্টল ১৮৮। এটি ব্রিটিশদের একটি সংস্করণ ছিল। তবে অনেক ব্যয়বহুল আর আশা নিয়ে তৈরি করা হলেও এটি তার কিছুই পূরণ করেতে পারেনি। উড়োজাহাজটির একসঙ্গে অনেকগুলো ত্রুটি ছিল। প্রথম উড়াল দেয়ার সময়ই এর জ্বালানি ট্যাঙ্কটি খুলে পড়ে যায়।  


১৯০১ সালে, বিজ্ঞানী এবং উদ্ভাবক স্যামুয়েল পিয়ারপন্ট একটি উড়োজাহাজের নকশা করেছিলেন। যা সাফল্যের সঙ্গে এক মাইল যেতে পারে বলে দাবি করেন তিনি। এরপরে তিনি সবচেয়ে দ্রুতগামী উড়োজাহাজ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। সেই অনুসারেই এরোড্রোম তৈরি করেন। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে ব্যর্থ হন তিনি। প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয়বার আবার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এবারো সব আশায় জল ঢেলে দিয়ে নিজেকে ব্যর্থ প্রমাণ করে এরোড্রোম। 


ম্যাকডোনেল এক্সএফ-৮৫ গোব্লিন


এই উড়োজাহাজটি পরজীবী যোদ্ধা হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। পরজীবীর অর্থ অনেকেই হয়তো বুঝতে পারেননি। পরজীবী যুদ্ধ উড়োজাহাজ হচ্ছে একটি উড়োজাহাজের ভেতর ছোট যুদ্ধ উড়োজাহাজ থাকে। শুত্রুদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এবং আকস্মিক আক্রমণ করতে যুদ্ধ উড়োজাহাজের ভেতর থেকে এমন ছোট উড়োজাহাজ বের হয়ে আক্রমণ চালাত। তবে ম্যাকডোনেল এক্সএফ -৮৫ গোব্লিন সফল হতে পারেনি। সব পরিকল্পনা মাঠেই মারা যায়।    


১৯৫০ এর দশকে মার্কিন সেনাবাহিনীর জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে তৈরি করা হয় এই উড়োজাহাজটি। তবে বিশাল বাজেটের লকহিড এক্সএফভি -১ সালমন কোনো কাজেই আসেনি। প্রথমবার অবতরণের কিছুক্ষণ পরই এর ইঞ্জিনটি খুলে পড়ে যায়। 


মার্কিন উড়োজাহাজ বাহিনী ১৯৮০ এবং ৯০ এর দশকের মধ্যে গ্রুমম্যান এক্স -৯৯ তৈরি করেন। এটি এয়ার ফোর্স, নাসা, গ্রুমম্যান এবং ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি দ্বারা ডিজাইন করা হয়। সামনের ডানাগুলো অন্যান্য উড়োজাহাজের তুলনায় আরো বেশি বায়ুসংস্থান হয় এমনভাবে তৈরি করা হয়। তবে এতো পরিকল্পনা আর রিসার্চ কোনোটাই কাজে লাগে নি।

 

এই উড়োজাহাজটি এমনভাবে তৈরি করতে চেয়েছিলেন যে এটি হবে সবচেয়ে আধুনিক উড়োজাহাজ। তবে পরীক্ষা চালানোর সময়ই দু’জন পাইলট মারা যান। তবে ফরাসিরা এতে দমে যাননি। আবারো চেষ্টা করেন এই উড়োজাহাজকে ত্রুটিমুক্ত প্রমাণ করতে। দুর্ভাগ্যক্রমে এবারো ব্যর্থ হন তারা। তবে সৌভাগ্যক্রমে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হলেও পাইলট নিজেকে বাঁচাতে পেরেছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.