বালি খুড়তেই মিললো ২০০০ বছর আগের কুমিরের মমি

 


ODD বাংলা ডেস্ক:   মিশরের মমি রহস্য সারাবিশ্বের আগ্রহের বিষয়। তবে এর রহস্য এখনো বের করা সম্ভব হয়নি গবষকদের পক্ষে। প্রাচীন মিশরের ইতিহাসকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে তাদের মমিগুলো। বিশেষ উপায়ে সংরক্ষিত মৃতদেহগুলো মমি নামে পরিচিত।

মিশরের পিরামিড এবং এর আশেপাশে অসংখ্য মমি করা মৃতদেহ পাওয়া যায়। এগুলো বেশিরভাগই ছিল মিশরের ফারাও অর্থাৎ রাজা, রানি, তাদের বংশের লোকেদের।


জানা যায়, সেসময় রাজবংশ এবং উচ্চবংশীয় ছাড়া কারো মৃতদেহ মমি করার অনুমতি ছিল না। এতে করে তাদের আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন হত। আর এটি বেশ ব্যয়বহুলও ছিল বটে। যা মিশরের সাধারণ জনগণের পক্ষে বহন করাও সম্ভব ছিল না। প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতায় ফারাওদের জীবনযাত্রা ছিল বেশ রহস্যময়। তারা বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত ছিল।


তাদেরকে খুশি রাখার দায়িত্ব ছিল সমাজের নিম্ন শ্রেণির মানুষের। তিন বেলার খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খেত তারা। সেখানে প্রিয়জনের মৃতদেহ মমি করার সুযোগই ছিল না। একটি মৃতদেহ যেন পচে-গলে নষ্ট না হয়ে যায় এজন্য মমি করা হয়। এই তথ্য প্রায় সবারই জানা। সহজ ভাষায় বলতে গেলে মমি হচ্ছে অপচনশীল মৃতদেহ। তবে মানুষের মৃতদেহ মমি করার ব্যাপারটা বোঝা গেল। জানেন কি? মানুষের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পোষা পাখি বা প্রাণীদেরও মমি করা হত। এমন অনেক পাখি, কুকুর, বিড়ালের মমি পাওয়া গেছে বিভিন্ন সময়।


সম্প্রতি মিশরের বালির স্তূপের নিচে পাওয়া গেল কুমিরের মমি। অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়? দু’চোখ যেদিকে যায় ধু ধু করছে বালি। এরমধ্যে মাথা  তুলে আছে বিশ্বের সপ্তাশ্চার্যের অন্যতম নিদর্শন পিরামিড। মিশরের এমন ছবির কথা সবাই তো জানি। জানতেন গবেষকরাও। তবে এটা জানতেন না, সেই গরম বালির নিচেই তাদের জন্য অপেক্ষা করে আছে এক মিশরীয় আশ্চর্য! বালির পরত একটু একটু করে সরাতেই দেখা মিলল খুলি। তবে তা মানুষের নয়, কুমিরের!


সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় মিশরের মরুভূমির বালির নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছে কুমিরের মমি। অধ্যাপক আলেকজান্দ্রো জিমেনেজ-সেরানো এবং তার দল আসওয়ানের কাছেই একটি অঞ্চলে গবেষণার কাজ করছিলেন। কুবেত এল-হাওয়ার এই স্থানটিতে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার অনেক কিছু ছিল। মিশর নিয়ে ঐতিহাসিক এবং গবেষকদের তো বটেই, সাধারণ মানুষেরও উৎসাহ কম নয়। কত রকমের রহস্য, রোমাঞ্চ ও ইতিহাস জড়িয়ে আছে এখানে। এখানে প্রাচীন কোনো মমির সন্ধানেই কাজ করছিলেন তারা। কেননা এখানে বিশেষ ব্যক্তিদের সমাধিক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হত। কাজেই কোনো অনাবিষ্কৃত মমি থাকলেও থাকতে পারে। সেই আশাতেই ছিলেন গবেষকদল।


বালির ভেতর চলছিল অনুসন্ধান। হঠাৎই সেখানে কিছু একটা দেখতে পেলেন আলেকজান্দ্রোর এক সহকারী। সময় আরো যাওয়ার পর সবাই রীতিমতো চমকে গেল। কোনো রাজার মমি নয়। এটি একটা কুমিরের খুলি! বিশাল বড়ো চোয়াল, সঙ্গে তীক্ষ্ণ ভয়াল দাঁত। একটু পরেই দেখা গেল, একটা নয়, পাশেই রয়েছে আরো একটি কুমিরের কঙ্কাল। এভাবে এই স্থানে কুমিরের কঙ্কাল পাওয়াটা একটু আশ্চর্যেরই! তবে গবেষকদের মত, এদের সম্ভবত মমিই করা হয়েছিল। কারণ কুমিরের হাড়ে কালো কালো অংশ ছিল, যা চামড়া এবং মাংসেরই উপস্থিতি জানান দেয়। বিশেষ করে এদেরকে যেভাবে রাখা হয়েছে সেটা স্বাভাবিক মৃত্যু হলে হত না। নিশ্চয়ই মমিই দেয়া হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যবশত কুমিরের মমি দুটির মধ্যে একটিই সংরক্ষণ করার মতো অবস্থায় আছে। তবে সেটাও পরবর্তী গবেষণার জন্য নিঃসন্দেহে ভালো কাজ হবে। তাদের ধারণা এই মমিগুলো প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো হতে পারে।


এভাবেই গবেষকদের গবেষণায় উঠে আসছে একের পর এক রহস্য। মিশরীয়দের রহস্যাবৃত জীবনযাপন বিশ্বের মানুষের কাছে উম্মোচিত হচ্ছে। যা থেকে বোঝা সম্ভব হচ্ছে, প্রাচীন মিশর কতটা সমৃদ্ধ আর এগিয়ে ছিল। তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে জীবন ব্যবস্থা সবই ছিল সময় অনুযায়ী অনেক এগিয়ে। মিশর গবেষকরা তাদের গবেষণা চালিয়েই যাচ্ছেন চমকপ্রদ কিছুর আশাতেই।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.