টুনটুনি : চালাক নাকি বোকা?



 ODD বাংলা ডেস্ক: অতি সুলভ তার দর্শন। গ্রাম-শহর সর্বত্রই দেখা মিলবে। ছেলে-বুড়ো সবাই এই পাখিটির সঙ্গে পরিচিত। নানা কারণেই ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণটি হচ্ছে আমাদের শিশুসাহিত্যে ‘টুনটুনি’ পাখি পাকাপোক্তভাবে স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। ছড়া-গল্প-গান কোথায় নেই টুনটুনি? কিন্তু এই পাখিকে নিয়ে মানুষের মধ্যে একটি বিতর্ক পুরানো। কেউ বলে টুনটুনি বেশ চালাক, আবার কেউ কেউ ওদের বলে বেশ বোকা। আসলে টুনটুনি চালাক নাকি বোকা?

স্বভাব এদের যত চালাক পাখি ভাবা হয় আসলে তা নয়। এরা যেমন চালাক তেমন বোকা। টুনটুনি বিপদ দেখলেই চেঁচামেচি করে। মেঘ দেখলেই পালাতে আসে মানুষের ঘরে। পা উপর দিকে দিয়ে ঝড় ঠেকানোর চেষ্টা করে বলে একটি গল্পও প্রচলিত আছে। এ বিষয়টি ঠিক যে, বিরূপ আবহাওয়া দেখলে টুনটুনি পা উপরে দিয়ে অবস্থান নেয়। তবে তা বিপদ ঠেকানোর জন্য কিনা তার সঠিক তথ্য মেলেনি।  


টুনটুনি আমাদের বসতঘরের গা-ঘেঁষা ঝোপজঙ্গলে সব সময়ই লাফিয়ে বেড়ায়। কিংবা নাচানাচি করে লেজ উঁচিয়ে। গান শোনায় ‘টিন-টিন-টিন-টিন বা কিট-কিট-কিট-কিট-’ আওয়াজ করে। মায়াবী চেহারা। স্বভাবে ভারি চঞ্চল। এদেরে বাংলা নাম ‘বুনো টুনি’। ইংরেজি নাম Grey-breasted Prinia। বৈজ্ঞানিক নাম Prinia hodgsonii।


স্থিরতা নেই খুব একটা। যেন একদণ্ড বসার সুযোগ নেই কোথাও। এই আছে তো এই নেই। তবে যেখানেই থাকুক না কেন এরা জোড়ায় জোড়ায় থাকে। জোড়ের পাখিটি সামান্য দূরে থাকলেও ডাকাডাকি করে ভাবের আদান-প্রদান চালিয়ে নেয়। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখি নানা কসরত করে স্ত্রী পাখির মন ভোলাতে। বাসা বাঁধে বেশ পরিপাটি করে। দুটি পাতাকে একত্রিত করে ঠোঁট দিয়ে সেলাই করে বাসা বাঁধে। অনেকটা দর্জির কাপড় সেলাই করার মতো। ইংরেজি নামকরণেও সেই রকমটি ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এ পাখির প্রধান শত্রু বাড়ির বিড়াল। মাটির কাছাকাছি বাসা বাঁধার কারণে বিড়াল সে সুযোগটি নেয়। তথাপিও দেশে এদের অবস্থান সন্তোষজনক। কারণ এরা বিড়াল দ্বারা আক্রান্ত হলেও মানুষ দ্বারা নির্যাতিত হয় না খুব একটা। মানুষ এদের যথেষ্ট মায়া করে।


বুনো টুনি ১০-১২ সে.মি. দৈর্ঘ্য ও ৬ গ্রাম ওজনের প্রিনিয়া বংশের সিস্টোলিডি পরিবারের অন্তর্গত একটি ছোট তৃণচারী পাখি। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠের দিক জলপাই-বাদামি। দেহের নিচের দিক সাদা। বুক ধুসর। তলপেট পীতাভ বর্নের। চোখ অনুজ্জ্বল সামান্য বাদামি-কমলা। ঠোঁট কালো। ডানা ও লেজের প্রান্তদেশ লালচে। পা ও পায়ের পাতা হলুদ থেকে সামান্য বাদামি। নখ কালো। ছেলে ও মেয়েপাখির চেহারায় ভিন্নতা রয়েছে। বুনো টুনি সাধারণত আবাদি জমির ধারের বৃক্ষতলে জন্মানো লতাগুল্ম, ছোট ছোট ঝোঁপসমৃদ্ধ তৃণভূমি, বাঁশবন ও চাষের জন্য পরিষ্কার জায়গায় বিচরণ করে।


এরা মাটিতে খাবার খুঁজে বেড়ায়। এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে পোকা, শুয়োপোকা ও ফুলের মধু।


বুনো টুনি ভারতের সুলভ আবাসিক পাখি। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগে বনে পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মিয়ানমারসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে। এরা বিশ্বে ও ভারতে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। ভারতের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.