দিনদিন ইতি হচ্ছে সার্কাসের স্মৃতি

 


ODD বাংলা ডেস্ক: সার্কাস, দেশের ঐতিহ্যবাহী একটি সংস্কৃতি। এটিকে একটি শিল্পও বলা চলে। নানা রকম শারীরিক কসরত, বিনোদন আর প্রাণীদের খেলা দেখানোর মধ্য দিয়ে চলে সার্কাস। আনন্দ-আগ্রহ আর ভয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রাখার একটি অনুষঙ্গ সার্কাস। এক সময় এটি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের বিনোদনের জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমছে সার্কাসের চাহিদা। তবে কি, ইতি ঘটতে চলেছে সার্কাস স্মৃতির?

বাংলায় সার্কাস শব্দটি আসলে একটি ইংরেজি শব্দ। ১৪শ শতকে ইংরেজি ভাষায় প্রথম এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। ইংরেজি সার্কাস আসলে ল্যাটিন circus থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ল্যাটিন শব্দটি আবার গ্রিক থেকে এসেছে। যার আক্ষরিক অর্থ বৃত্ত বা রিং।


সার্কাসের রয়েছে দীর্ঘ এক ইতিহাস। সার্কাস (Circus) এক ধরনের বিশেষ বিনোদন কেন্দ্র বা বিনোদন প্রক্রিয়া। সার্কাসের উৎপত্তি ও বিস্তার প্রাচীন রোমে। বৃত্তাকার একটি স্টেডিয়ামের মধ্যে এর সূত্রপাত হয়েছিল বলে ইতিহাসের নানা প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে। এটি একটি প্রাণী শিল্প এবং জাদুকরের খেলা হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে পরিচিত হয়ে ওঠে।


১৭৭০ সালে লন্ডনে আধুনিক সার্কাস শুরু হয়। এরপর, যুক্তরাষ্ট্রে জার্মানিতে হেনগানবিকার এবং বার্নহাম পিটিবর্নমের মতো সার্কাস টিম আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত হয়ে ওঠে। আস্তে আস্তে এটি বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়তা পায়। ১৮৮৬ সালে ইটালিয়ান চ্যাপলিনে টোকিও আকীহাবারাতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে সার্কাস।


মূলত সার্কাস বিনোদন কেন্দ্র হলেও তা ভ্রাম্যমাণ যা দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কিংবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে শুভেচ্ছা সফরে বা ব্যবসায়িক কারণে যাতায়াত করে। তবে সব সার্কাসই অবশ্য ভ্রাম্যমাণ নয়। কিছু সার্কাস দলের নিজস্ব ভবন বা মিলনায়তন রয়েছে।


শারীরিক ব্যায়াম, বিশেষ কলা-কৌশল, ভাঁড়, মূকাভিনয়, রশি দিয়ে হাঁটা, পোষা প্রাণীসহ নানা মাধ্যমে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন বা উপস্থাপনা করা হয় সার্কাসে। স্ল্যাকলাইনিং, সাইক্লিং, অ্যাক্রোব্যাটিকস, ছুরির কসরতসহ আরো অনেক রকমের খেলা দেখানো হয় এসব সার্কাসে।


সার্কাসের ক্লাউন বা জোকারদের জনপ্রিয়তা বেশ। মুখে-চোখে রং মেখে মানুষকে হাসানোই যাদের কাজ। আবার আনন্দ দেওয়ার পরিবর্তে তারাই হয়ে ওঠে ভয়ের কারণ। ক্লাউনের অঙ্গভঙ্গি দেখে যখন অনেক মানুষ হাসছেন, তখনই সে আজব সব কাণ্ড করে ভয় দেখায়। ক্লাউনদের সারা মুখ, এমনকি শরীরের কিছু অংশও ঢাকা থাকে রং এবং পোশাকের আড়ালে। এর নিচের মানুষটা কেমন তা ঠিক জানা হয় না। আর এ যেন অনেকের কাছেই এক কৌতূহলের বিষয়।


কাকতাড়ুয়া : ক্ষেত সুরক্ষায় কৃষকের প্রাচীন বন্ধু


তবে বর্তমান কালের সার্কাস দলের লোকেরা আগের মতো আর উপার্জন করতে পারে না। কারণ, দেশের অতি পুরনো জনপ্রিয় সার্কাস শিল্প আজ প্রায় বিপন্ন। স্বাধীনতাপূর্ব এবং উত্তরকালে গঠিত অধিকাংশ সার্কাস দল আজ আর নেই। মড়ার ওপর খাড়ার ঘা হিসাবে এসেছে করোনা মহামারি।


 তালিকার বাইরে দেশে প্রায় ১০০ টিরও বেশি দল রয়েছে। সার্কাসের একেকটি দলে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১০০ জন লোক কাজ করে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রধান অভিনয়শিল্পী, সহকারি এবং সাহায্যকারী কর্মী। দলের অধিকাংশ সদস্যই এই পেশায় বংশানুক্রমে এসেছেন, অথবা শৈশব থেকেই কাজ করছেন। বহুদিন ধরে দেশে সার্কাস প্রদর্শনী বন্ধ থাকায় এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২৫ হাজার মালিক-কর্মচারী-শিল্পী এখন বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।


এই বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যটি আমাদের সংস্কৃতির একটি সমৃদ্ধ অংশ। সার্কাস বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের সহায়তা এবং উদ্যোগ এখন জরুরি বলে মনে করছেন এই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.