নেই সেই উঁচু গাছ, কমে গেছে তিলানাগ ঈগলও
ODD বাংলা ডেস্ক: প্রতিটি পাখির প্রজনন, বংশবিস্তার বা জীবনাচরণ একেক রকম। পাখিদের বসবাসের জন্য দরকার প্রকৃত পরিবেশ। সেই পরিবেশ পেলেই হয় ওদের বংশবিস্তার। ঘর বাধা, ডিম পারার জন্য কোনো কোনো পাখির দরকার উঁচু বা দীর্ঘদেহী গাছের। তেমন পরিবেশ বা গাছের অভাব দারুণভাবে প্রভাব ফেলতে পারে পাখিদের বংশবিস্তারে।
বর্তমানে বৈলাম, গর্জন, চাপালিশ, গামার, তেলসুর, সেগুন, জারুল প্রভৃতি প্রজাতির উঁচু পাহাড়ি গাছ আর প্রাকৃতিক বনেও দেখা যায় না। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে ওগুলো। সংঘবদ্ধ চোরচক্রের লোলুপ দৃষ্টিতে নির্ভর কতিপয় ব্যক্তিরা উজার করেছে এসব মূল্যবান বৃক্ষ।
এসব উঁচু গাছের অভাবে যে পাখিটি সবচেয়ে বেশি প্রজনন সংকটের পড়েছে তার নাম ‘তিলানাগ ঈগল’। তিলানাগ ঈগলের ইংরেজি নাম Crested Serpent Eagle এবং বৈজ্ঞানিক নাম Spilornis cheela। এই পাখিটি আকারে চিলের মতো। দৈর্ঘ্যে প্রায় ৫৬ থেকে ৭৪ সেন্টিমিটার। ঘাড়ে তাদের রয়েছে ঝুঁটি এবং কালচে-বাদামি দেহে রয়েছে অসংখ্য সাদা তিলা।
শীতের শেষদিকে এদের প্রজনন মৌসুম শুরু হয়। এসময় এরা এদের এলাকা প্রতিষ্ঠা করতে থাকে এবং প্রণয়ের জন্য সঙ্গী খুঁজতে থাকে। গ্রীষ্মের শুরুতে ডিম পাড়ে। প্রজনন মৌসুমে উঁচু গাছের ডালে এরা বাসা করে। উঁচু ডাল ছাড়া এরা বাসা বাধতে পারে না।
এদের মুখ উন্মুক্ত, হলুদ ঠোঁট মাংশল অংশের সাথে যুক্ত, শক্তিশালী পাগুলো লোমহীন এবং ঘন আঁইশাকার। এরা বিরাট পাখার উপর ভর করে উঁচু বনের উপর দিয়ে ওড়াওড়ি করে। এদের লেজ প্রশস্ত সাদা এবং কালো দাগযুক্ত। এরা প্রায়ই তীক্ষ্ণ, কর্ণভেদী তীব্র ডাক ডেকে থাকে।
একটি মধ্যম আকৃতির শিকারী পাখি ‘তিলানাগ ঈগল’। এটি এশিয়ার নিরক্ষীয় অঞ্চলে বন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। ব্যাপক পরিসরে ভারতীয় উপমহাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ায় এদের বেশ কয়েকটি প্রকরণ পাওয়া যায়। কতিপয় বিশেষজ্ঞ এদের কিছু উপপ্রজাতিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতি হিসেবে বর্ণনা করে থাকেন। ইতোপূর্বে, ফিলিপাইন নাগঈগল, আন্দামান নাগঈগল এবং দক্ষিণ নিকোবর নাগঈগলকে তিলা নাগঈগলের উপপ্রজাতি হিসেবে ধরা হয়েছে।
এই পাখিটি আগের থেকে অনেকটা কমে গেছে। আগে গ্রামগঞ্জে বড় বড় গাছ ছিল। বিশেষ করে শিমুল গাছে ওরা চুপ করে বসে থাকতো। গাছের নিচে শিকার দেখলেই উপর থেকে নেমে এসে শিকার ধরে নিয়ে যেতো। এদের অন্যতম প্রধান খাবারই হচ্ছে সাপ। পা দিয়ে ধরে সাপকে গাছের উপর নিয়ে বা মাটিতে বসেই মেরে খায়। যার ফলে এরা সাপের প্রজনন নিয়ন্ত্রণের জন্য বড় একটা ভূমিকা পালন করে। শুধু গ্রামগঞ্জেই নয়, বনপাহাড় থেকেও বিশালাকৃতির গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে প্রজনন সংকটের মধ্যে রয়েছে তারা।





Post a Comment