‘মুসলিমদের বোকা বানিয়ে নিজের রুটি সেঁকে নিচ্ছেন মমতা’ – বিস্ফোরক নাজিয়া এলাহী খান ভিডিও সহ
ODD বাংলা ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বড় সম্পদ হলো সংখ্যালঘু ভোট বা মুসলিম ভোট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুসলমানদের মসিহা বলতেও শোনা যায়, ইফতার পার্টিতে যোগদান করতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, আবার ঈদের সময় বক্তব্যও রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, সম্পূর্ণটাই হলো রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি। নিজের স্বার্থেই মুসলিম সমাজকে ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার এ বিষয়ে বিজেপি নেত্রী নাজিয়া এলাহী খানের সঙ্গে কথা বললেন প্রথম কলকাতার প্রতিনিধি রোজিনা রহমান।
হিজাব নিয়ে কথাই বলা উচিত নয় মমতার
হিজাব নিয়ে বিরোধীরা সরব হলেও,তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুতে সেভাবে মুখ খোলেনি, কিন্তু মুসলিম মসিহা বলতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, এ প্রসঙ্গে তাঁর কী অভিমত? এর উত্তরে বিজেপি নেত্রী নাজিয়া এলাহী খান জানালেন, তিনি মনে করেন হিজাব নিয়ে একটা কথাও বলা উচিত নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাঁকে মুসলমান মেয়েদের আদর্শ বানিয়েছেন, তিনি হলেন নুসরত জাহান, যিনি হাফ প্যান্ট পরিধান করেন। আর মুসলমান ছেলেদের আদর্শ বানিয়েছেন তিনি ফিরহাদ হাকিমকে। যে ফিরহাদ হাকিমের মেয়েরা অর্ধনগ্ন পোশাক পরিধান করেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা যায় থাইয়ের ওপরে শ্যাম্পেনের বোতল খুলতে।
এটাই কি আদর্শ?
এমন দলের নেত্রী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিজাবের ব্যাপারে কোনো কিছু না বলে বুদ্ধিমানের কাজই করেছেন। এ ব্যাপারে যদি তিনি চুপ থাকেন, তবে সেটাই ভালো হবে। নুসরত জাহানকে মুসলিম সমাজের মুখ করে খাড়া করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে সাংসদ বানিয়েছেন। কিন্তু নিজের বাচ্চা নিয়েই যাঁর বিভ্রান্তি, যাতে একসময় মিডিয়া, দেশ সরগরম ছিল, তারপর টিকটকে তিনি যেভাবে নিজেকে সামনে এনেছেন, এটা কি মুসলমান মেয়েদের আদর্শ হবে?
মাথায় দোপাট্টা রাখলেই কি মানবে
তাঁকে প্রশ্ন করা হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইফতার পার্টিতে যোগদান করতে দেখা যায়, দোপাট্টা পরিধান করতে দেখা যায়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেন মুসলমানদের, এ বিষয়ে তাঁর কী অভিমত? এর উত্তরে নাজিয়া এলাহী খান জানালেন, মাথায় দোপাট্টা রেখে, লা ইল্লাহু ইল্লাল্লাহু মহম্মদুর রাসুলুল্লাহ বললে আর জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিলে তাকে জেলে পাঠিয়ে দিলে কোন মুসলমানই মানবে না।
সঠিকভাবে কোরআন পড়েন নি
মুসলিম ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেতেন , কারণ পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানেরা সঠিকভাবে কোরআন পড়েন নি বলে, তিনি মনে করেন। যদি সঠিকভাবে কোরআন পড়তেন, তাহলে কখনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাদের মসিহা বলে মনে করতে পারতেন না। ইফতার পার্টিতে যান, ঈদে তিনি ভাষণ দেন, সবাই টুপি পরে তাঁর সামনে গিয়ে দাঁড়ান। কিন্তু কোরআনে, শরীয়তে, হাদিসে মহিলাদের ঈদের নামাজে বক্তব্য রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।
মুসলমানদের বোকা বানানো হচ্ছে
মুসলমানদের বোকা বানিয়ে নিজের রুটি সেঁকে নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুসলমানের জন্য তিনি কী করেছেন? মুসলমান অধ্যুষিত এলাকায় ১১ বছর ধরে কি কোন উন্নতি হয়েছে? মুসলমানদের শিক্ষার জন্য কী কাজ করেছেন? ১১ বছর ধরে তালাকের শিকার হওয়া, ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলাদের জন্য তিনি কী করেছেন? ১১ বছরে তিনি কোন কলেজ বা প্রতিষ্ঠান কী খুলেছেন, যেখানে বিনামূল্যে পড়াশোনা করতে পারবে মুসলমান মেয়েরা?
সবটাই ভোটব্যাঙ্ক
নিজের ভোট ব্যাংকের জন্য বিক্রি করছেন তিনি মুসলমানকে। দোপাট্টা মাথায় রেখে নিজেকে মুসলমান বলে প্রচার করছেন। কিন্তু ভোট প্রার্থীদের তালিকা দেখলে বোঝা যাবে, মুসলমানের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এটা
একটা চক্রান্ত মুসলমানেরা তার শিকার, কারণ তাদের পরিপূর্ণ শিক্ষা নেই, দেশ থেকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন বাংলার মুসলমানেরা। সঠিকভাবে যদি তারা কোরআন পরতেন, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জবাব দিতে পারতেন। দুয়ারে দুয়ারে মদের ব্যবস্থা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন বাংলার মুসলমান এর কোনো প্রতিবাদ করেনি? কেন নবান্ন ঘেরাও করে নি?
একদিন এটা শেষ হবেই
মহরমে একদিনের ছুটি দিলে অশিক্ষিত মুসলমান তাঁকে মসিহা বলে মানতে পারেন। কিন্তু শিক্ষিত মুসলমানেরা কখনোই না। যারা কোরআন পড়েছেন, যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আছে, সংবিধান পড়েছেন, তাঁরা কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানবেন? তিনি যা করছেন পুরোটাই রাজনৈতিক খেলা, যা বেশিদিন চলবে না, একদিন তা শেষ হবেই।
পক্ষপাতদুষ্টতা বেশিদিন চলতে পারেনা।
এককথায় বিজেপি নেত্রী নাজিয়া এলাহী খান জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনোই মুসলমানদের মসিহা নন, মুসলমানদের তিনি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছেন, তাদের প্রকৃত উন্নয়ন করছেন না, এক রাজনৈতিক খেলা চলছে তাদের সঙ্গে।





Post a Comment