ভ্যালেনটাইন'স ডে-তে 'হৃদয়' ঝোলে শপিং মলে, মনের মধ্যে প্রেম কোথায়
ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়, Odd বাংলা: আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডে। ক্যালেন্ডার মতে এই দিন ভালবাসার দিন। যদি ইতিহাসে এ নিয়ে অন্যান্য ব্যাখ্যা রয়েছে। সেই সব ব্যাখ্যায় আর গেলাম না। তবে প্রেমের সংজ্ঞার বদল যে হয়েছে সেকথা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকেই বলেন আলাদা করে প্রেমের জন্য কোনও আলাদা করে দিন বরাদ্দ করার প্রয়োজন পড়ে না। অনেকে আবার বলেন আর পাঁচটা দিনের থেকে আলাদা কোনও দিনকে বিশেষভাবে বোঝাতে আলাদা সেটা করে সেলিব্রেট করা প্রয়োজন। কিন্তু সেই নিয়েও পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য রয়েছে।
কিন্তু আজকাল ভ্যালেন্টাইনস ডে-কিন্তু অনেকটাই বাণিজ্যসর্বস্ব। কেন? সত্যি বলতে ভ্যালেনটাইনস উইক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফোনে আসতে শুরু করে বিভিন্ন অফারের মেসেজ। গয়নার দোকানে মেকিং চার্জের ওপর দেওয়া হচ্ছে ফ্ল্যাট ২০ শতাংশ ছাড়। অন্যদিকে আবার শপিং মলে গেলে বাই ওয়ান গেট ওয়ান অফার। এমনকি মুখ ফসকে অনেককে মুদি দোকানে গিয়েও বলতে শুনেছি 'ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে কোনও অফার নেই।' দোকানদারও লজ্জায় মুচকি হেচে দু'টো টাকা কম নেন। এইভাবেই প্রেমের দিনের মাহাত্ম্যটা যেন কবল উপহার, অফার, বাই ওয়ান গেট ওয়ানেই সীমাবদ্ধ। কোথাও গিয়ে মাঝে মাঝে এমনটাও মনে হয় যে, শুধু যেন কিছু অফার অ্যাভেইল করার জন্যই এই বিশেষ দিনটিতে ঘুরতে বেড়ানো।
এরপরই যে বিষয়টি নজরে পড়ে তা হল উপহার দেওয়া। এমনিতে সঙ্গীর মন খারাপ এক নিমেশে উধাও করে দিতে পারে তার পছন্দসই কোনও উপহার। আর তা যদি হয় সারপ্রাইজ গিফ্ট তাহলে তো আর কথাই নেই। সেদিন বন্ধু মহলে কথা হচ্ছিল ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে বয়ফ্রেন্ডকে কোন উপহার দেওয়া হবে। অনেকেই অনেক উপহারের কথা বলছিল। সবার কথোপকথন শুনে মনে হচ্ছিল ভ্যালেনটাইনস ডে-তে উপহার দেওয়াটা কি বাধ্যতামুলক। মানে ভি ডে-তে প্রেমিকের হাতে উপহার তুলে দিচ্ছি-মার্কা ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে না পোস্ট করলে কি আমার ভি-ডে অসম্পূর্ণ।
আর রেস্তোরায়ঁ ডিনারে গেলে তো আর কথাই নেই। সাধারণ ক্যাফেতেও একটা অতিরিক্ত মিল্ক শেক বা কোল্ড কফি বা একটা ব্রাউনি আইসক্রিম বিনামূল্যে দেওয়া হয়ে থাকে। তবে সবকিছু উপরে প্রেম মনে হয় আজ বড়ই ফিকে। কোন প্রেমিক তাঁর প্রেমিকাকে কতখানি সারপ্রাইজ করেত পারল তাই নিয়েই চলে যেন এক অঘোষিত প্রতিযোগীতা। কে কত বড় করে সেলিব্রেট করতে পারল, তা দেখেই মন খারাপ করে যাঁরা করতে পারল না তাঁরা। তবে এই সেলিব্রেট করতে না-পারাটা কিন্তু কখনওই ভালবাসার পরিমাণ মাপতে পারে না। যাঁরা কর্মসূত্রে অনেকটা ব্যস্ত, না-ই বা হল বাইরে বেরোনা, না-ই বা হল ডিনার আউটিং, ভালবাসা যদি মনের মধ্যে থাকে তাহলে বাড়ির ডাইনিং টেবিলে মোমবাতি জ্বেলে বাইরে থেকে অর্ডার করা খাবারেও হতে পারে প্রেমযাপন।





Post a Comment