যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসা চড়ক পুজোর রীতি-নীতি ও রোমহর্ষক প্রথা!
Odd বাংলা ডেস্ক: চৈত্র সংক্রান্তির দিন পালিত হয় চড়ক পুজো।পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যেও চড়ক পালনের রেওয়াজ রয়েছে। চৈত্র মাসের শেষ দিনে শুরু হয়ে বৈশাখের প্রথম দুই থেকে তিন দিন এই চড়ক উৎসব এবং তাকে ঘিরে চলে মেলা। এই চড়ককে শিবঠাকুরের গাজন উৎসবের একটি অন্যতম অঙ্গ হিসাবে ধরা হয়।
সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, এ জগতে যারা মহাদেবের সন্তুষ্টি লাভের জন্য স্বেচ্ছায় কঠিন আরাধনার পথ বেছে নেন, তাদের মৃত্যুর পর স্বর্গে যাওয়ার বর দেন মহাদেব। চড়ক পুজোর শুরুতে শিবপাঁচালী পড়ার রীতি আছে। মন্ত্রপড়া শুরু করলে সন্ন্যাসীরা মহাদেবের নামে ধ্বনি দিতে দিতে নদীতে স্নান করতে যান। স্নানের পর মাটির কলসিতে করে জল ভরে এনে চড়ক গাছের গোড়ায় সমবেত হন তাঁরা। শিবপাঁচালী পাঠ চলাকানীনই ভক্ত ও সন্ন্যাসীরা চড়ক গাছে জল ঢেলে প্রণাম করেন, তারপর তাঁদের অন্যত্র নিয়ে গিয়ে বাণবিদ্ধ করা হয়। সন্ন্যাসীরা নিজেদের শরীর বড়শিতে বিদ্ধ করে চড়কগাছে ঝুলে শূণ্যে ঘুরতে থাকেন। সন্ন্যাসীরদের আর্শীবাদ লাভের আশায় অভিভাবকরা আবার সন্তানদের শূন্যে তুলে দেন। সন্ন্যাসীরা ঘুরতে ঘুরতে কখনও কখনও শিশুদের মাথায় হাত দিয়ে আর্শীবাদ করেন। এই অবস্থায় একহাতে বেতের তৈরি বিশেষ লাঠি ঘোরাতে থাকেন এবং অন্য হাতে দর্শনার্থীদের উদ্দেশে বাতাসা ছুঁড়ে দেন ঝুলন্ত সন্ন্যাসীরা।
এই চড়কপুজোই হল গম্ভীরা এবং শিবের গাজনের রকমফের। চৈত্রসংক্রান্তির দিনে অর্থাৎ চৈত্র মাসের শেষ দিনে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। আবার এই পুজোরই আর এক অঙ্গের ননাম নীলপুজো। পুজোর আগে চড়কগাছের তল এবং চড়কগাছটি ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে নেওয়া হয়। এরপাশেই একটি পাত্রে জল ভরে তাতে শিব ঠাকুরের মূর্ত প্রতীক শিবলিঙ্গ রাখা হয়। তবে অনেকসময় আবার একটি লম্বা কাঠের তক্তায় সিঁদুর মাখিয়েও রাখা হয়, যাকে বলা হয় ‘শিবের পাটা’। আর এটাই সকলের কাছে ‘বুড়োশিব’ নামে প্রচলিত। এই নামের সঙ্গে আশা করি অনেকেই পরিচিত।
প্রথা- এই পুজোর কিছু বিশেষ অঙ্গ রয়েছে, যা আজও কিছু কিছু জায়গায় চরম নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়। যেমন, জ্বলন্ত কয়লার ওপর দিয়ে হাঁটা, ছুরি এবং কাঁটার ওপর লাফানো, কুমিরের পুজো, শিবঠাকুরের বিয়ে, আগুনের ওপর নাচ করা, চড়কগাছে দোলা ইত্যাদি।
এই পুজোর ক্ষেত্রে সবথেকে উল্লেকযোগ্য যে বিষয়টি তা হল দৈহিক যন্ত্রণা, যাকে এই পুজোর এক বিশেষ অঙ্গ বলে মনে করা হয়। বলা হয় প্রাচীন কৌম সমাজে প্রচলিত নরবলির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত রয়েছে এই পুজোর রীতি-নীতিতে। এই পুজোর অঙ্গ হিসাবে ভক্তরা এবং সাধু-সন্তরা হুড়কো দিয়ে চাকার সঙ্গে বেঁধে দ্রুত বেগে ঘুরিয়ে থাকে। আবার লোহার শলাকা তাদের পায়ে ,হাতে, গায়ে, পিঠে, এমনকি জিহ্বাতেও প্রবেশ করানো হয়। এমনকী কখনও কখনও জ্বলন্ত লোহার শলাকা শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও প্রবেশ করানো হয়। তবে ব্রিটিশ সরকার আইন প্রণয়ণ করে এই নিয়ম-নীতি বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু আজও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এইসব নিয়ম-নীতি প্রচলিত রয়েছে।





Post a Comment