করোনা সংক্রমণের জের, সরকারের সাহায্য না পেয়ে বিলুপ্তির পথে দক্ষিণ আফ্রিকার এই উপজাতি
Odd বাংলা ডেস্ক: করোনার কারণে সারা বিশ্বে মারা গিয়েছেন ২ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬১৩ জন। অন্যান্য দেশের মতো আফ্রিকা মহাদেশেও করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানা ইতিমধ্যেই ১৬০০ মানুষ করোনায় আক্রমণের ফলে মারা গিয়েছেন। আফ্রিকা মহাদেশের ইকুয়েডরের এক আদিবাসী সম্প্রদায়েরর মধ্যেও করোনা সংক্রমণ এতটাই দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, মনে করা হচ্ছে এই ভাইরাসের কারণেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে 'সিকোপাই' (Siekopai) নামে আদিবাসী উপজাতিটি।
ইকুয়েডর এবং পেরুর সীমান্তে সিকোপাই উপজাতিটি মোটামোটি ৭০০ জন সদস্য নিয়ে তৈরি, যাদের মধ্যে ১৫টি করোনা পজিটিভ কেস ধরা পড়েছে। কিন্তু আরও দুঃখের বিষয় হল, গত দু'সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওই উপজাতির দুই প্রবীণ সদস্য মারাও গিয়েছেন বলে খবর উপজাতি সূত্রে। সেইসঙ্গে সিকোপাই উপজাতির এক বিরাট সংখ্যক সদস্যদের শরীরেও ধীরে ধীরে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে, যা তাঁদের শরীরের করোনা লক্ষণগুলি থেকে খুবই স্পষ্ট।
কিন্তু তাঁরা নিকটবর্তী তারাপোয়া শহরের একটি সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সহায়তা পেয়েছিলেন, বলে জানান উপজাতি প্রধান জাস্টিনো পিয়াগুয়াজে। তিনি আরও জানিয়েছন, এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে তাঁদের দলের একজন প্রবীণ নাগরিক যখন মারা গিয়েছিল তখন সিকোপাই নেতারা ইকুয়েডর সরকারের কাছ থেকে সহায়তা চেয়েছিলেন। তাঁরা চেয়েছিলেন তাঁদের সম্প্রদায়ের সকলকে পরীক্ষা করা হোক। কিন্তু সরকারের তরফে তাঁরা কোনও সাড়া পাননি।
উপজাতি প্রধান জাস্টিনো পিয়াগুয়াজে আরও জানিয়েছেন, এর আগেও তাঁরা এইধরণের রোগের কবলে পড়েছিলেন, কিন্তু তাঁরা আর চান না যে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হোক। তিনি আরও বলেন যে, 'আমরা চাই না যে, আমাদের দলের সদস্যরা বলুক যে, আমাদের দলে একসময় ৭০০ সদস্য ছিল, এখন ১০০ জন রয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে ইকুয়েডর সরকার কি আমাদের এই দুঃখের কাহিনী উপহার দিতে চায়?' সরকারকে এমনই প্রশ্নের সম্মুখীন করে দিয়েছেন তাঁরা।
আরও জানা যায় যে, করোনাভাইরাসের ভয়ে সিকোপাই উপজাতির কয়েক ডজন শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্করা সংক্রমণ এড়াতে ক্যানোতে পালিয়ে গিয়েছে। এটি হল ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় জলাভূমি, যা জঙ্গলের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। তবে শুধু সিকোপাই উপজাতি নয়, অন্যান্য উপজাতির সদস্যরাও করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অন্যত্র পালাচ্ছেন বলে খবর। প্রসঙ্গত, ইকুয়েডরে ইতিমধ্যেই ৩০,০০০ করোনা আক্রান্তের হদিশ পাওয়া গিয়েছে।





Post a Comment