ঘরে ফেরার পথেই সন্তান প্রসব, ২ ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে ১৫০ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হাঁটলেন পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রী


Odd বাংলা ডেস্ক: মহারাষ্ট্র থেকে মধ্যপ্রদেশে নিজের গ্রামে পায়ে হেঁটে ফেরার পথে মাঝরাস্তাতেই সন্তান প্রসব করেন এক পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রী। সন্তান জন্মের পর মাত্র ২ ঘণ্টা বিশ্রাম নেওয়ার পর ফের নিজের সদ্যোজাতকে কোলে নিয়ে পায়ে হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেন তিনি। 

সর্বভারতীয় সংবাগ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, ওই গর্ভবতী মহিলা এবং তার স্বামী মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের সাতনায় নিজেদের বাড়িতে ফেরার জন্য। দীর্ঘসময় হাঁটার পর মঙ্গলবার তীব্র প্রসব বেদনা অনুভব করেন ওই প্রসূতি। তার স্বামী জানান, সন্তান জন্ম দেওয়ার পরে, তাঁরা কেবল ২ ঘন্টা বিশ্রাম নিয়েছিলেন এবং তারপরে তাঁরা কমপক্ষে ১৫০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেছেন। 

সাতনা ব্লকের মেডিকেল অফিসার এ কে রায় জানিয়েছেন, 'আমরা জানতে পেরেছিলাম যে সীমান্ত প্রশাসন তাদের জন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করেছিল। তাঁরা উনচাহারে পৌঁছলে আমরা তাদের এখানে নিয়ে এসেছি। সমস্ত চেক-আপ করা হয়েছে, মা এবং শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। 

প্রসঙ্গত, মে মাসের শুরুর দিকে তেলেঙ্গানা থেকে ছত্তিশগড়ে বাড়ি যাওয়ার পথে আরও এক অভিবাসী শ্রমিকের গর্ভবতী স্ত্রী রাস্তাতেই সন্তান প্রসব করেছিলেন। গর্ভবতী ওই মহিলাটি তাঁর পরিবারের সঙ্গে তেলঙ্গানার সাংদারডি জেলা থেকে পায়ে হেঁটে ছত্তিশগড়ের তার নিজের গ্রাম রাজন্দনগাঁও-এ যাচ্ছিলেন। লকডাউনের কারণে তাঁদের জীবন-জীবিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের দেশে ফিরতে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন শুরু করার পরেও হাজার হাজার মানুষ এই ট্রেনগুলিতে ওঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

নেই কোনও বিকল্প ব্যবস্থাও, রাজ্য জুড়ে দরিদ্র অভিবাসী শ্রমিকরা এখনও দেশে ফিরতে রাস্তা ধরে পায়ে হেঁটে ফিরছেন। কেউ কেউ যানবাহন ভাড়া নিতে পেরেছেন, আবার কেউ কেউ কয়েকশো কিলোমিটার ধরে ট্রাক বা টেম্পোতে বা চড়ে ফেরার চেষ্টা করেছেন। আর যাঁদের হাতে কোনও উপায় ছিল না তাঁরা পায়ে হেঁটে যাত্রা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.