মাথায় ছোট হয়েও, কীভাবে গণেশ ঠাকুরের বাহন হল ইঁদুর, জানুন সেই পৌরাণিক কাহিনি
Odd বাংলা ডেস্ক: দুনিয়ায় এত তাবড় তাবড় জীব-যন্তু থাকতে ছোট্ট ইঁদুরকেই কেন বাহনের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন পার্বতী নন্দন- আপনাদের অনেকের মনেই হয়তো এই প্রশ্ন জাগে। বিশেষত মা দুর্গার বাহন যেখানে পশুরাজ সিংহ, সরস্বতীর হাঁস, কার্তিকের ময়ূর, লক্ষ্মীপ পেঁচা, সেখানে গণেশের বাহন কেন পুঁচকে ইঁদুর? পূরাণ মতে, গণেশের বাহন ইঁদুরের হওয়া নিয়ে রয়েছে এক কাহিনি-
দেবরাজ ইন্দ্রের সভায় গান গেয়ে সকলের মনোরঞ্জন করতেন ক্রঞ্চ নামে এক গন্ধর্ব। একদিন সেই সভায় বামদেব নামে এক ঋষি উপস্থিত হন এবং সেখানে গান গাইতে শুরু করেন। কিন্তু, ঋষির গলায় সুরের অভাব থাকায় বিদ্রুপ করে হেসে ফেলেন গন্ধর্ব ক্রঞ্চ। স্বাভাবিক ভাবেই বিরক্ত হন মুনিবর। অভিশাপ দেন ক্রঞ্চকে যে তিনি ইঁদুর হয়ে যাবেন, আর কোনও দিন আর গান গাইতে পারবেন না।
বামদেবের কাছে ক্ষমা চাইলেও তাঁর অভিশাপে রূপ পরিবর্তন হয় ক্রঞ্চের এবং তিনি এসে পড়েন মর্ত্যের এক খোলা মাঠে। কাছেই ছিল পরাশর মুনির কুটির। ক্রঞ্চ-রূপী ইঁদুর সেখানেই নিজের খাবারের জন্য হানা দিতে শুরু করেন। অতিষ্ট হয়ে ওঠে সেখানকার বাসিন্দারা।
এক দিন গণেশ সেই মুনির কুটিরে গেলে, জানতে পারেন ইঁদুরের কীর্তির কথা এবং তাকে ধরতে উদ্যত হন। এক সময় ধরেও ফেলেন। কিন্তু ক্রঞ্চ নিজের পরিচয় দিয়ে সব কথা খুলে বলেন গণেশকে এবং এও বলেন, বামদেব বলেছিলেন যে স্বয়ং গণপতি যদি তাকে তাঁর বাহন করেন, তবেই ঘুচবে ক্রঞ্চের দুঃখ। গজাননেন হৃদয় অনেক বড়, তাই এর পরেই ইঁদুরকেই বাহন বানিয়ে নেন তিনি।





Post a Comment