এই বলিউড নায়িকাদের মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি আত্মহত্যা? যার রহস্য আজও অধরা


Odd বাংলা ডেস্ক: বলিউডের তরুণ অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত ১৪ ই জুন বিকেলে হঠাৎ আত্মহত্যা করেছিলেন। একই সময়ে, সুশান্তের মৃত্যুর আগে, তার এক্স ম্যানেজার, ২৮ বছরের দিশা স্যালিয়ান ১৪ তলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। দিশা সলিয়ানের আকস্মিক মৃত্যু অনেক বড় প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল।তদন্তে জানা গেছে যে দিশা যখন আত্মহত্যা করেছিলেন, তখন সে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় ছিল।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দিশা স্যালিয়ানের মৃত্যু ঝাঁপ দেওয়ার কারণে নয়, নেশার মতো অবস্থায় জানালা থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে হয়। দিশার মৃত্যুতে, পুলিশ এখন কেবল আত্মহত্যার দিক দিয়ে নয়, হত্যা ও দুর্ঘটনার কোণ থেকেও এই পুরো মামলাটি তদন্ত করছে। জেনে অবাক হবেন যে দিশার আগেও অনেক বলিউড সেলিব্রিটি এমন রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মারা গিয়েছিলেন। আজ আমরা জানব সেই বলিউড সেলিব্রিটিদের সম্পর্কে…

দিব্যা ভারতী:- তিন বছরের অভিনয় জীবনেই আসমুদ্র হিমাচলের মনে জায়গা করে নিয়েছেন এই বলি নায়িকা। ৫ই এপ্রিল, ১৯৯৩, মাত্র ১৯ বছর বয়সে অকালেই চলে গিয়েছিলেন দিব্যা। মৃত্যুর ২৭ বছর পরেও দিব্যা ভারতীর মৃত্যুও আজও এক অজানা রহস্য। শুধুই কী দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে ছিল কোনও ষড়যন্ত্র? উত্তর মেলেনি।

পুলিশ ফাইল বলছে, দিব্যা ভারতীর মৃত্যু ছিল দুর্ঘটনা। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে মদ্যপ অবস্থায় পাঁচতলা অ্যাপার্টমেন্টের ব্যালকনির রেলিং ধরে হাঁটছিলেন দিব্যা, পা পিছলে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিত্সকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে,মাথায় গভীর চোটের চিহ্ন ছিল দিব্যার।

যদিও দুর্ঘটনার এই তত্ত্বকে আজও মেনে নিতে পারেনি ভক্তরা। দিব্যা ভারতীর মৃত্যু নিয়ে বলিউডের অন্দরেও অনেক গল্প শোনা যায়। কারুর মতে এটা ছিল ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে খুন, কারুর মতে আত্মহত্যা করেছিলেন অভিনেত্রী।

২০১১ সালে হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবদন থেকে জানা যায় মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেই দিব্যা ভারতীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। সাংবাদিক রোশমিলা ভট্টাচার্য লেখেন, ‘আমার মনে আছে ১৯৯৩-এর এপ্রিলের ওই দিনটা। আমি সবেমাত্র অফিসে পা রেখেছি,যখন খবর এল দিব্য ভারতীকে গুলি মারা হয়েছে।

আমি প্রশ্ন করেছিলাম কে ছবি তুলেছে গৌতম রাজাধ্যক্ষ না রাকেশ শ্রেষ্ঠ? আমি সহকর্মী জানিয়েছিল কেউ ছবি নেয়নি। বলেছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের যোগসূত্র রয়েছে এই ঘটনায়। এরপর খোঁজ নিয়ে স্পষ্ট জানাই এটা গুজব, কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে খবর আসে দিব্যা ভারতী আর নেই’!

শ্রীদেবী, যিনি তাঁর আত্মীয়ের বিয়েতে দুবাইতে আনন্দ হৈ হুল্লোড় করেন ,আর তার কয়েকদিনের মাথায় শোনা যায় তাঁর মৃত্যুর খবর। বলিউড সুপারস্টার শ্রীদেবীর আকস্মিক মৃত্যুসংবাদ যতটা বেদনাদায়ক, ততটাই রহস্যজনক। কারণ প্রথম থেকে এই মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ বলে জানানো হলেও, পরে তা জলে ডুবে মৃত্যু বলে ঘোষিত হয়। এই মৃত্যু ঘিরে দুবাই পুলিশের নানা তথ্য এবং উঠে আসা কয়েকটি তত্ত্বের দিকে একবার আলোকপাত করা যাক। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে দাবি করেছে দুবাই পুলিশ।

২৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাতে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়। সেই রাতে এদেশে এই দুঃসংবাদ এসে পৌঁছলে জানতে পারা যায়, হৃদ’রোগে আ’ক্রান্ত হয়ে অভিনেত্রীর মৃ’ত্যু হয়েছে। ঠিক এক দিন পার করে ২৬ ফেব্রুয়ারি  দুবাই পুলিশ জানিয়েছে , হৃ’দরোগ নয়, হোটেলের বাথ টবের জলে ডু’বে মৃ’ত্যু হয়েছএ শ্রীদেবীর। ফলে স্বভাবতই একটি মৃ’ত্যু নিয়ে দুরকমের তত্ত্ব ও তথ্যে প্রশ্ন উঠছে।

দুবাই পুলিশ যে ফরেন্সিক রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে স্পষ্ট বলা হচ্ছে শ্রীদেবীর রক্তের নমুনাতে অ্যালকোহল পাওয়া গিয়েছে। তবে রাজনীতিবিদ ও বনি কাপুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অমর সিং এর দাবি, শ্রীদেবী হুইস্কির মতো মদ্যপান করতেন না। খুব জোর ওয়াইন নিতেন, কিন্তু কোনও দিনও তাঁকে মদ্যপ অবস্থায় দেখা যায়নি। ফলে, সেদিন দুবাইতে তাঁর মদ্যপান করার তত্ত্ব ঘিরেও প্রশ্ন উঠছে ।

দুবাই পুলিশের দাবি, মদ্যপান করে সম্ভবত দুবাইয়ের হোটেলের বাথরুমে ঢুকে ছিলেন শ্রীদেবী। সেখানে নেশাগ্রস্ত অস্থায় বেসামাল হয়ে পড়ে যান তিনি। আর বাথটবে পড়ে, নাকে ,মুখে জল ঢুকে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান শ্রীদেবী। রহস্য় দানা বাঁধছে শ্রীদেবীর এই বেসামাল অবস্থা ঘিরেই।

জানা যাচ্ছে, আত্মীয়ের বিয়ের পর্ব শেষ হওয়ার পর কাপুর পরিবারের সকলই ফিরে যান মুম্বইতে। কিন্তু তারপর ৩ দিন জন্য় দুবাইতে থেকে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। স্বামী বনি ফিরে গেলেও, স্ত্রীকে ‘সারপ্রাইজ’ দিতে

তিনি আবার ফিরে আসেন দুবাইতে। আর ঘটনার দিন রাতে তাঁরা ডিনার ডেট -এর প্রস্তুতিতে ছিলেন। তখনই ঘটে যায় এই ঘটনা। জানা যাচ্ছে, ওই ৩ দিন শ্রীদেবী হোটেল থেকে বের হননি। এনিয়েও রহস্য অনেকের মনেই দানা বাঁধছে।

জিয়া খান, বলিউডের অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যু-রহস্য নিয়ে এখন পর্যন্ত জল কম ঘোলা হয়নি। এবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জিয়া খানের মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (এফবিআই) সম্পৃক্ত করার অনুমতি চেয়েছে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন কনস্যুলেট।

জিয়া খান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। দেশটির পাসপো’র্টও রয়েছে তাঁর। এ বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে জিয়া খানের মৃ’ত্যু-র’হস্য উদঘা’টনে এফ’বিআ’ইকে সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে গত অক্টোবরে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যান্সি জে পাওয়েল বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন জিয়া খানের মা রাবেয়া আমিন। রাবেয়ার নিজেরও মার্কিন নাগরিকত্ব রয়েছে।

সম্প্রতি রাবেয়ার আবেদনটি মুম্বাইয়ের আমেরিকান সিটিজেন সার্ভিসেস ইউনিটের প্রধান রোজমেরি ম্যা’ক্রে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দিয়েছেন। জিয়ার মৃ’ত্যু-রহ’স্য উদঘাটনে নতুন করে তদ’ন্ত শুরুর পাশাপাশি তদ’ন্তকাজে সাহায্য করার জন্য এফবিআইকে সম্পৃক্ত করার অনুমতিও চাওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আর পাতিলের কাছে। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে মিড-ডে ডটকম।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ জুন মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজ বাসা থেকে জিয়া খানের ঝু’লন্ত লা’শ উ’দ্ধার করা হয়। জিয়ার আ’ত্মহ’ত্যায় প্র’রোচ’নার দায়ে ভারতীয় দ’ণ্ডবি’ধির ৩০৬ ধারায় তাঁর প্রেমিক সুরজ পাঞ্চোলিকে গ্রে’প্তার করে মুম্বাই পুলিশ। অল্প কয়েক দিন জেলের চার দেয়ালে ব’ন্দী থাকার পর জামিনে মুক্তি পান বলিউডের প্রভাবশালী ও বিতর্কিত অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরজ।

পরবর্তী সময়ে গত ১ অক্টোবর জিয়ার মৃ’ত্যুকে পরিকল্পিত হ’ত্যাকা’ণ্ড দাবি করে বোম্বের উচ্চ আদালতে মাম’লা ঠু’কে দেন রাবেয়া। জিয়াকে হ’ত্যার পর আ’ত্মহ’ত্যার নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের ত’দন্ত প্রশ্নবি’দ্ধ ও একপেশে উল্লেখ করে রাবেয়া বলেন, প্র’ভাব খা’টিয়ে সুরজের পক্ষে তদ’ন্তের ফলাফল প্রকাশ করানো হয়েছে। এ জন্য ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইন’ভেস্টি’গেশনকে (সিবিআই) অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় নিরপেক্ষ তদ’ন্ত শুরুর আবেদন জানান তিনি।


পারভিন বাবি , বিখ্যাত অভিনেত্রী পারভিন বাবি নিজের অভিনয়ের জোরে সকলের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা তৈরি করেছিলেন। সবার হৃদয়ে জায়গা তৈরি করলেও নিজের স্বামীর হৃদয়ে জায়গা না পাওয়ায় বিষণ্নতায় ভুগতেন। যার কারণে তিনি আ’ত্মহ’ত্যার পথ বেছে নেন। কিন্তু তার মৃ’ত্যু নিয়ে অনেক গু’জব আছে। অনেকে বলেন ডা’য়াবেটিসের কারণে মৃ’ত্যু হয়েছে। আবার অনেকের মতে বিবাহ বহির্ভূ’ত সম্প’র্ক ছিল যার কারণে তিনি আ’ত্মহ’ত্যা করেছেন। পারভিন বাবির মৃ’তদে’হ মৃ’ত্যুর কয়েকদিন পর তার নিসঙ্গ অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া যায়।

প্রতুষা ব্যানার্জী, বালিকা বধূ’-র আনন্দী চরিত্রের জন্যই মূলত জনপ্রিয় হয়েছিলেন টেলিভিশন অভিনেত্রী প্রত্যুষা ব্যানার্জি। যদিও তারপর বিগ বসের মঞ্চের মাধ্যমেও যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তারপর তো আচ’মকাই সবাইকে এপ্রিল ফুল করে দিয়ে চলে গেলেন। তাঁর মৃ’ত্যু রহ’স্য, রহ’স্যই থেকে গেল।

প্রত্যুষা ব্যানার্জির আ’ত্মহ’ত্যার ঘটনায় তাঁর প্রেমিক রাহুল রাজ সিংকে পুলিস গ্রে’ফতার করেছিল। পরে যদিও তিনি জামিনে ছাড়াও পেয়ে যান। এবার প্রত্যুষা ব্যানার্জির মৃ’ত্যু রহস্যে নতুন মোড় নিল। চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন প্রত্যুষার বাবা শেখর এবং মা সোমা ব্যানার্জির আইনজীবী নীরজ গুপ্তা।

প্রত্যুষা ব্যানার্জি মা’রা যাওয়ার আগের একটি টেলিফোন কথোপকথন সদ্যই হাতে এসেছে তাঁদের। সেই ৩ মিনিটের টেলিফোন কথোপকথনে জানা যাচ্ছে যে, তাঁকে জোর করে দে’হব্য’বসায় নামতে বাধ্য করেছিল রাহুল। ওই কথোপকথনে প্রত্যুষা রাহুলকে বলছেন, ‘আমি এখানে নিজেকে বে’চতে আসিনি। আমি এখানে অভিনয় করতে এসেছি।

আর তুমি আমাকে এ কোথায় নিয়ে এলে। রাহুল তোমার কোনও ধারণাই নেই, ঠিক কতটা খা’রাপ ফিল করছি আমি এখন।’ প্রত্যুষা আরও বলেন, ‘তুমি স্বা’র্থপর। তুমি আমাকে ব’দনাম করছ। লোকে আমার নামে খারাপ কথা বলছে। আমার বাবা-মাকে খারাপ বলছে। রাহুল সব শে’ষ হয়ে গিয়েছে। আমি শে’ষ হয়ে গিয়েছি। আমি ম’রে গেছি।’ প্রত্যুষার এই কথার পরেই রাহুল প্রত্যুষার ফ্ল্যাটে আসতে চান।

কিন্তু প্রত্যুষা বলেন, ‘তুমি আর এখানে এসে কী করবে? আর আধ ঘণ্টার মধ্যে সব শে’ষ হয়ে যাবে।’এই কথোপকথনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যুষার বাবা-মায়ের আইনজীবী নীরজ গুপ্তা জানান, এই কথোপকথন থেকে পরিস্কার যে রাহুল জোর করে প্রত্যুষাকে দে’হব্যব’সায় নামতে বা’ধ্য করেছিলেন। এমনকি ফোনে ‘প্র’স্টিটি’উশন’ শব্দটাও ব্যবহার করেছিলেন নায়িকা।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.