'ব্রাহ্মণদের ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়দের ক্ষত্রিয় বললে রেগে যায় না, শূদ্রদের শূদ্র বললে ওরা রেগে যায় কেন?', ফের বিতর্কে সাধ্বী প্রজ্ঞা


Odd বাংলা ডেস্ক: ফের বিতর্কিত মন্তব্য করে বিপাকে বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিংহ ঠাকুর। হিন্দু বর্ণ প্রথার পক্ষে কথা বলতে গিয়ে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ধর্মশাস্ত্রে সমাজ ব্যবস্থার জন্য চারটি বর্গ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ব্রাহ্মণকে ব্রাহ্মণ বললে খারাপ নাগে না। ক্ষত্রিয়দের ক্ষত্রিয় বললে খারাপ লাগে না।  বৈশ্যকে বৈশ্য বললে খারাপ লাগে না। শূদ্রকে শূদ্র বললে খারাপ লাগে, কেন? অজ্ঞতা। আসলে  ওরা বুঝতেই পারে না।

ক্ষত্রিয় মহাসভা আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রজ্ঞা এমন অনেক কিছু বলেছেন, যার জেরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক! প্রসঙ্গত, ভারতের সংবিধান অনুসারে, যে কোনও নাগরিকের যে কোনও পেশায় থেকে জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। প্রজ্ঞার মতামত তার উল্টো। তার পরামর্শ, প্রত্যেকের উচিত নিজ জাতি বা বর্ণের জন্য নির্দিষ্ট একটি পেশা বা বৃত্তিতে নিয়োজিত থাকা।

নরেন্দ্র মোদী সরকারের আনা তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে বর্তমানে কৃষকরা যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাকে 'দেশবিরোধী' বলে ঘোষণা করেছেন প্রজ্ঞা। তিনি বলেছেন, 'কৃষকের পরিচয়ে যারা প্রতিবাদ করছেন, তারা দেশবিরোধী। তারা আসলে কৃষকই নন। কৃষকের ছদ্মবেশে কংগ্রেসের লোকজন ও বামপন্থীরাই দেশবিরোধী কথা বলছেন, ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।' সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দিল্লির শাহিন বাগে ঠিক এমনটাই করেছিলেন তারা, বলেও মন্তব্য করেন প্রজ্ঞা।      

প্রজ্ঞা আরও বলেন, নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে হবে ক্ষত্রিয়দের। আরও বেশি সংখ্যক সন্তান উৎপাদন করে তাদের সেনাবাহিনীতে পাঠাতে হবে, যাতে তারা দেশের জন্য লড়তে পারে ও মজবুত করতে পারে দেশের সুরক্ষা বিভাগ। কাজ বা শিক্ষায় সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে তর্ক দীর্ঘদিনের। আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও দলিতদের সমাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। মূলত এই যুক্তিতেই সংবিধানে জাতপাত ভিত্তিক সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং এখনও তা বহাল রয়েছে। প্রজ্ঞার দাবি, জাতপাতের ভিত্তিতে নয়, শুধুমাত্র আর্থিকভাবে অনগ্রসরদের জন্য সংরক্ষণ থাকা উচিত।  

বিতর্কিত মন্তব্য করে প্রজ্ঞার শিরোনামে আসা ও পরে ক্ষমা চাওয়া, কোনও নতুন ঘটনা নয়। নাথুরাম গডসেকে ‘দেশপ্রেমিক’ বলেও দু’বার সংসদে ক্ষমা চেয়েছেন অতীতে। গোমুত্র খেয়ে তার ক্যান্সার সেরেছে, বলে দাবি করে হাসির পাত্রও হয়েছেন বিজেপির এই সাংসদ।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.