গর্তে থাকে ভূত, টেনে নিয়ে যায় গ্রামবাসীদের! জলপাইগুড়ির রহস্যময় কাইতাকুড়া মন্দির
Odd বাংলা ডেস্ক: জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে, জর্দা নদীতে নাকি রয়েছে গভীর রহস্যময় গর্ত। এবং প্রতি বছরই কাউকে না কাউকে টেনে নেয় ওই গহ্বর। এই নদী পাড়েই রয়েছে কাইতাকুড়া মন্দির। ভূত চতুর্দশীর দিন পুজো হয় এই দেবতার। দিনের বেলা মন্দিরের পরিবেশ স্বাভাবিক মনে হলেও, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মন্দির সংলগ্ন জর্দা নদী এবং ঘন বাঁশবন গা ছমছমে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি করে দেয় যেন।
ময়নাগুড়ির গোবিন্দনগরের এই মন্দিরে এবারও আয়োজন শুরু হয়েছে ভুত তাড়ানোর এই পুজার।
রাজবংশী ভাষায় ‘কাইতাকুড়া’ শব্দের অর্থ, কাইতা অর্থে কাত হওয়া বা হেলে পড়া, আর কুড়া মানে গভীর গর্ত। গোবিন্দ নগরের কাইতাকুড়া মন্দিরে দুটি ভাগ— একটিতে গাধার পিঠে রয়েছেন কাইতাকুড়া দেবতা, পাশে তার বন্দুকধারী পুলিশ। অন্য একটি মন্দির গৃহে রয়েছেন রাজা-রাণির মূর্তি। কে এই রাজা-রাণি, সে বিষয়ে বিশেষ কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। সবকটি মুর্তিই মাটির।
স্থানীয় গ্রামবাসী এবং ইয়ংমেন্স কালচারাল ক্লাবের উদ্যোগেই এই পুজোর আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই দেবতা নিয়ে অদ্ভুত কিছু ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন। মন্দিরের বাঁ পাশে জর্দা নদীতে রয়েছে কাইতাকুড়া নদী ঘাট।
গত ৫০ বছর ধরে প্রতি বছরই সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন কেউ না কেউ। ‘কুড়া’ অর্থাৎ গভীর গর্তই টেনে নিয়ে যায় তাদের। গত ৫০ বছর ধরেই এই মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী এক গ্রামবাসী। স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন যে, এই কুড়া বা গর্তে কোনও ভূত বা প্রেত রয়েছে। এবং কাইতাকুড়ার পুজো করলেই তা থেকে নিস্তার পাওয়া যায়।
জনশ্রুতি, অতীতে কোনও এক জোতদার এই পুজো শুরু করেন, তাঁর পরিবারের এক সদস্যের এই ঘাটেই দুর্ঘটনা ঘটার পর। পুজোর নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম বা মন্ত্র নেই। পুজোর উপকরণ বলতে ২২টি ধুপকাঠি, জল, দুধ, আতপ চাল। দেবতাকে নিবেদন করা হয় ফুল, তিল, শুকনো চিঁড়ে, আখের গুড়, কলা।
প্রসঙ্গত, কাইতাকুড়া ঘাটে দুর্ঘটনা এড়াতে, ময়নাগুড়ি ব্লক প্রশাসন সাইন বোর্ড টাঙিয়ে ঘাটে নামতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।





Post a Comment