ওয়াজিদের পরিবার মুসলিম হতে বাধ্য করেছিল, বিস্ফোরক দাবি প্রয়াত ওয়াজিদ খানের স্ত্রীর!

Odd বাংলা ডেস্ক: ধর্মান্তরণ নিয়ে বিস্ফোরক হয়ে উঠলেন বলিউডের প্রথম সারির মিউজিক কম্পোজার প্রয়াত ওয়াজিদ খানের স্ত্রী। তাঁর অভিযোগ ওয়াজিদের পরিবার তাঁকে মুসলিম হতে বাধ্য করেছিলেন। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ধর্মান্তরণের অভিযোগ তুলে তিনি লিখেছেন যে, বিয়ের পর তাঁর জীবনে এসেছিল আমুল পরিবর্তন। 

ওয়াজিদ খানের স্ত্রী কমলরুখ খান বিয়ের আগে ছিলেন পার্সি, আর ওয়াজিদরা মুসলিম। 'কলেজ সুইটহার্ট' বলতে যা বোঝায়, তা-ই ছিলেন তাঁরা। বিয়ের আগে ১০ বছর সম্পর্ক ছিল তাঁর আর ওয়াজিদের। বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে হয় তাঁদের, যে আইনের জেরে বিয়ের পরেও নিজের ধর্মেই থাকা যায়। কিন্তু ধর্মের নামে যেভাবে একজন মহিলাকে অত্যাচারিত হতে হয় তা অত্যন্ত লজ্জার।

পার্সি পরিবারে বড় হয়ে ওঠা ছিল একদম অন্যরকম অভিজ্ঞতা। পরিবারের প্রত্যেকের মতামতের যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল। স্বাধীনচেতা মনোভাবকে প্রাধান্য দেওয়া হত। শিক্ষাকে উৎসাহিক করা হত। কিন্তু বিয়ের পরে জীবন পুরো পাল্টে যায়। স্বাধীনতা, শিক্ষা, মতামত তাঁর স্বামীর পরিবারে সবথেকে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। স্বাধীনচেতা মনোভাব, মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হত না। এমনকি তাঁকে ধর্ম পরিবর্তনের জন্যও জোর করা হত। তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে তিক্ত করে তোলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর আত্মসম্মান তাঁকে ওয়াজিদের সামনে এবং ওঁর পরিবারের সামনে নিচু হতে শেখায়নি বলে লেখেন তিনি।

দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে 'লাভ জিহাদ' বিরোধী অর্ডিন্যান্স জারি করেছে উত্তরপ্রদেশ। ধর্ম পরিবর্তন রুখতে আইন আনতে চলেছে হরিয়ানা সরকারও। এই পরিস্থিতিতে ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে তিনি বলেছেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন ধর্ম পরিবর্তন কোনও গর্বের বিষয় নয়। এমনকি পুরুষতন্ত্রের উদাহরণও হতে পারে না।

তাঁর আরও দাবি যে, তাঁর বিবাহিত জীবনে এই নিয়ে তিনি অনেক লড়াই করেছেন। ভয়ে দেখিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করাতে চেয়েছিল ওঁরা। ওঁরা চেয়েছিল যে তাঁদের বিয়েটাও যেন ভেঙে যায়। এর জেরে মানসাকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় ওয়াজিদের মৃত্যুর পরেও তাঁর পরিবার থেকে একইরকম ব্যবহার পেয়েছেন বলেও জানান তিনি। তিনি তাঁর ১৬ বছরের মেয়ে আর্শি এবং ৯ বছরের ছেলে রিহানের জন্য সুন্দর জগৎ তৈরি করে যেতে চান বলে লেখেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.