সুবিধাবঞ্চিত পাড়ায় থাকলে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ডিমেনশিয়া হচ্ছে

Odd বাংলা ডেস্ক: কিছু কিছু রোগ আছে যা আমাদের মস্তিষ্ককে ঠিকমত কাজ করা থেকে বিরত রাখে। যখন কারো এরকম রোগ হয়ে থাকে, তাদের কোন কিছু মনে রাখা, চিন্তা করা ও সঠিক কথা বলা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। তারা এমন কিছু বলতে বা করতে পারে যা অন্যদের কাছে অদ্ভূত মনে হতে পারে, এবং তাদের জন্য দৈনন্দিন কাজ করা কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে। পূর্বে তারা যেমন ছিল তেমন তারা নাও থাকতে পারে। এসব বিভিন্ন সমস্যা বর্ণনা করতে চিকিৎসকেরা ডিমেনশিয়া শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। ডিমেনশিয়া আছে এমন অধিকাংশেরই আলঝেইমারস ডিজিজ বা ভ্যাসকিউলারডিমেনশিয়া থাকে, তবে এর অন্যান্য ধরনও রয়েছে।

কাউকে ডিমেনশিয়া কীভাবে প্রভাবিত করে থাকে?

আমরা সবাই মাঝে মাঝে বিভিন্ন জিনিস ভুলে যাই, যেমন কোথায় আমাদের চাবি রেখে এসেছি। এটার মানে এই নয় যে আমাদের সবার ডিমেনশিয়া আছে। ডিমেনশিয়ার লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে যার ফলে দৈনন্দিন জীবন বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে।

যখন কারো ডিমেনশিয়া শুরু হয়, তখন নিম্নোক্ত জিনিসগুলো প্রকাশ পেতে থাকে:

সাম্প্রতিক ঘটনা, নাম ও চেহারা ভুলে যাওয়া।

প্রায়শই অল্প সময়ের মধ্যে একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করা।

জিনিসপত্র ভুল স্থানে রাখা।

মনযোগ ধরে রাখা বা সরল সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে উঠা।

দিনের তারিখ বা সময় সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া।

হারিয়ে যাওয়া, বিশেষ করে নতুন নতুন স্থানে।

সঠিক শব্দ ব্যবহার বা অন্যদের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া।

অনুভূতিতে পরিবর্তন, যেমন সহজে বিমর্ষ ও মর্মাহত হয়ে পড়া, বা কোন কিছুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।

ডিমেনশিয়া খারাপের দিকে যেতে থাকলে রোগীর জন্য স্পষ্ট করে কথা বলা ও তার প্রয়োজন বা অনুভূতি সম্পর্কে কাউকে জানানো কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাদের জন্য নিজে থেকে খাওয়া ও পান করা, কোন কিছু ধোয়া ও পোশাক পরা এবং অন্যদের সাহায্য ছাড়া শৌচাগারে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: 

পায়খানার গাদায় কাটে দিন, করোনার মাঝে কেমন আছে কলকাতা শহরের মেথররা

আগুনে জিভ রেখে সত্য-মিথ্যার অদ্ভুত পরীক্ষা!

সাম্প্রতিক গবেষণা কী বলছে 

বেশি সুবিধাযুক্ত এলাকাগুলিতে যাঁরা থাকেন তাদের ডিমেনশিয়া হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম বলে জানানো হয়েছে এই গবেষণাতে। মানে যাঁরা মুক্ত বসবাস করছেন, ছেলেমেয়েদের ওপর সব কিছুর জন্য নির্ভর করতে হয় না, মানে নিজে বাজার করছেন, ঘরের কাজ কর্ম করছেন সেরকম প্রৌঢ়দের ডিমেনশিয়ার লক্ষণ কম দেখা যাচ্ছে। 

American Academy of Neurology তরফে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে তাঁরা মোট ৬০১ জন বৃদ্ধা-বৃদ্ধার ওপর গবেষণা চালিয়েছিলেন। গবেষণার শুরুতে, সর্বাধিক সুবিধাবঞ্চিত পাড়ায় বসবাসকারী লোক এবং অন্যান্য সুবিধাযুক্ত এলাকায় বসবাসকারী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মধ্যে মস্তিষ্কের আয়তনের কোনও পার্থক্য দেখতে পায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত, গবেষকরা সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত পাড়ার লোকদের মধ্যে স্মৃতিচারণের সাথে যুক্ত মস্তিষ্কের অংশগুলিতে মস্তিষ্কের সংকোচনের সন্ধান পেয়েছেন, সুবিধাযুক্ত গ্রুপে কোনও সঙ্কোচন হয়নি।

এখন এই সুবিধা বঞ্চিত বিষয়টাকে বুঝতে। ফ্ল্যাটে থাকলেই সুবিধাযুক্ত তা কিন্তু নয়। মুক্ত আলো, বাতাস, পরিশুদ্ধ পানীয় জল, বিনোদন, হেঁটে চলে বেড়ানোর মতো জায়গা এই সব কিছু যেখানে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা পাবেন সেটাই হল সুবিধাযুক্ত স্থান। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.