মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ডার্বি ম্যাচের ইতিহাসে কলঙ্ক! ঝরেছিল ১৬টি তাজা প্রাণ
ODD বাংলা ডেস্ক: দিনটা ছিল ১৯৮০-এর ১৬ আগস্ট। কী ঘটেছিল সে দিন? কলকাতার লিগ ফুটবলে ইডেন উদ্যানে মুখোমুখি হয়েছিল কলকাতার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল। প্রথমার্ধটা নির্বিঘ্নে কাটলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন মোহনবাগানের বিদেশ বসু এবং ইস্টবেঙ্গলের দিলীপ পালিত। রেফারি দুই ফুটবলারকেই লাল কার্ড দেখান।
এই ঘটনার পরেই গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। হুড়োহুড়ি পড়ে যায় দর্শকদের মধ্যে, চলে ধাক্কাধাক্কি, ছুটোছুটি। ভিড়ের চাপে লুটিয়ে পড়েন অসংখ্য দর্শক। অনেকে তাঁদের মাড়িয়েই চলে যান। পরিণতিতে ১৬টি তাজা প্রাণ কেড়ে ইডেনের সেই অভিশপ্ত ম্যাচ। রক্তে লাল হয়ে যায় সবুজ ইডেন।
সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে স্ত্রীকে হারিয়েছিলেন উত্তর কলকাতার সিমলা রোডের বাসিন্দা অলোক দাস। স্ত্রী রীতার মৃত্যুশোকে ভেঙে পড়েছিলেন অলোক। বন্ধুর অনুরোধে প্রিয় স্ত্রীকে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে থাকতে সে দিন মাঠে গিয়েছিলেন অলোকবাবু। বাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন ২৮ দিনের কন্যাসন্তানকে। কিন্তু মাঠ থেকে তাঁর আর ফেরা হল না। জন্মের মুহূর্তে মা-কে হারানো কন্যা ২৮ দিন পরে তার বাবাকেও হারাল।
অলোকবাবুর মতোই সে দিন ফেরেননি ফুটবল-পাগল যুবক উত্তম ছাউলে, কার্তিক মাইতি, সবে উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়া ছটফটে তরুণ রাসবিহারী অ্যাভেনিউয়ের অসীম চট্টোপাধ্যায়রা।
ইডেনের স্মৃতিফলক বা ১৬ আগস্ট আইএফএ-র রক্তদান শিবির ছাড়া ওঁদের আর কেউ মনে রাখেনি। কিন্তু আজও সেই দুঃখের স্মৃতি বহন করে চলেছে ভাগ্যহীন পরিবারগুলো। কলকাতার ফুটবলের এ এক বড়ো ট্রাজেডি।





Post a Comment