মহাদেব এবং পার্বতীর আশীষ পেতে পালন করুন প্রদোষ ব্রত, কীভাবে করবেন জেনে নিন


Odd বাংলা ডেস্ক:পরমেশ্বর ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর উদ্দ্যেশে পালিত প্রদোষ ব্রত হিন্দুদের জন্য একটি অতি জনপ্রিয় ব্রত। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে প্রতি মাসে দুইবার প্রদোষ ব্রত বা প্রদোষাম্ পালিত হয়। এই উপবাসটি সাধারণত পালিত হয় ত্রয়োদশ দিবসে শুক্লপক্ষে অর্থাৎ পূর্ণিমা তিথিতে অথবা কৃষ্ণপক্ষে অর্থাৎ অমবস্যা তিথিতে। হিন্দী ভাষায় প্রদোষ শব্দের অর্থ হলো সন্ধ্যার পূর্ব মুহূর্ত (গোধূলী তিথিতে) অথবা সূর্য উদয়ের পূর্ব মুহূর্ত(ঊষাকাল)। সনাতন হিন্দু শাস্ত্রে এই ব্রতকে সর্বোচ্চ সম্মান দান করেছে কারন এই ব্রতের দিনে শুধু এই ব্রত পালনকারীকে শুধু দর্শন করলেই সর্ব পাপ বিনষ্ট হয়, সর্ব ক্ষেত্রে সৌভাগ্য অর্জন হয় আর ইহজীবন সুখের হয়।

যেহেতু এই পবিত্র ব্রতটি গোধূলীকালে তথা সন্ধ্যাকালে পালিত হয় তাই এই ব্রতের নাম ‘প্রদোষ ব্রত’। প্রদোষ ব্রতকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 

  • শনিবারে পালিত প্রদোষ ব্রত শনি প্রদোষম্‌ বলে পরিচিত, 
  • সোমবারে পালিত প্রদোষ ব্রতগুলো সোম প্রদোষম্‌ বলে পরিচিত এবং 
  • মঙ্গলবারে পালিত ব্রত ভৌম প্রদোষম্‌ বলে পরিচিত। 

আরও পড়ুন- প্রতিদিন সমুদ্রের বুক চিরে জেগে ওঠে এই শিবমন্দির, যার নির্মাণ রহস্য আজও অধরা!

হিন্দু পুরাণ মতে এই প্রদোষ ব্রতের এই শুভ দিনে ভগবান শিব এবং মাতা পার্বতী একত্রে খুবই আনন্দিত, প্রসন্ন এবং সদয় থাকেন। তাই সকল ভক্তেরা তাদের আরাধ্যের নিকট থেকে ঐশ্বরিক বর লাভের আশায় এই বিশেষ দিনগুলিতে উপবাস করে পুজো করে থাকেন। প্রদোষ ব্রত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল বয়সের মানুষ পালন করতে পারেন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা এই ব্রতটি ভক্তি এবং শ্রদ্ধা সহকারে পালন করে থাকে।

ভগবান শিব এবং মাতা পার্বতীকে কেন্দ্র করেই এই প্রদোষ ব্রতটি উজ্জাপন করা হয়। ভারতের কিছু কিছু স্থানে নৃত্যকলায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ভগবান শিবের নটরাজ রূপকে পূজা করে থাকেন। স্কন্দ পুরাণ মতে, প্রদোষ ব্রত পালনের দুটি নিয়ম আছে। প্রথম নিয়ম অনুসারে, প্রদোষ ব্রত উজ্জাপিত হয় কঠোর নিয়মের মধ্য দিয়ে যেখানে দিবা রাত্রি (২৪ ঘণ্টা) জেগে থেকে আরাধনা করতে হয়। দ্বিতীয় রীতি অনুসারে, সূর্যোদয়ের মুহূর্ত থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপবাস করতে হয় অর্থাৎ, সন্ধ্যাকালে ভগবান শিবের পূজা দেয়ার পরপরই এই ব্রত সম্পন্ন হয়।   

প্রদোষ ব্রত পালনের রীতি-

  • প্রদোষ ব্রত পালনের সর্বাধিক উৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে সূর্য্য উদয় এবং অস্তিমিত হওয়ার পূর্বমুহূর্ত(ঊষালগ্ন ও গোধূলীলগ্ন)।এই সময়ের মধ্যেই সকল পূজাবিধি পালনীয়।
  • সূর্য্য অস্ত যাওয়ার ১ ঘণ্টা পূর্বে ভক্তদের স্নান করে পূজার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।
  • প্রারম্ভিক পূজাকালে ভগবান শিবের সঙ্গে মাতা পার্বতী, শ্রী গণেশ, শ্রী কার্তিক এবং নন্দি মহারাজের পূজা করা হয়। এরপর ভগবান শিবকে আহ্বান করা হয় একটি পবিত্র কলসে। সেই কলসে পদ্ম অঙ্কিত থাকে এবং তা জলে পূর্ণ করে দূর্বা ঘাসের উপর স্থাপন করা হয়।
  • কোনও কোনও স্থানে আবার শিবলিঙ্গে- এর মাধ্যমে পূজা করা হয়ে থাকে। শিবলিঙ্গে দুধ, দই এবং ঘৃত দ্বারা স্নান করানো হয়। ভক্তরা পূজা সম্পন্ন করেন শিবলিং-এ বিল্বপত্র অর্পনের মাধ্যমে। আবার অনেকে ভগবান শিবের পটে অথবা চিত্রের মধ্যে পূজা করে থাকেন। বিল্বপত্র প্রদোষ ব্রতের সময় অর্পন করাকে মঙ্গলদায়ক বলে বিশ্বাস করা হয়।
  • এই সকল পূজাবিধি সম্পন্ন করার পর ভক্তরা প্রদোষ ব্রতকথা পাঠ করেন।
  • এরপর ভগবান শিবের মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র ১০৮ জপ করতে হয়।
  • পূজাবিধি সম্পন্ন হওয়ার পর পবিত্র কলসের জল ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তারপর শিবভক্তরা কপালে ভস্ম  দিয়ে শৈব তিলক লেপন করেন।পূজা শেষে ভক্তরা শিবমন্দির দর্শন করতে যান। এই দিনে শিব মন্দিরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন মঙ্গল বয়ে আনে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.