এই গ্রামের কোনও বাড়িতেই নেই দরজা, নেপথ্যে শনিদেব, জানুন এর মাহাত্ম্য
Odd বাংলা ডেস্ক: রয়েছে কয়েকশো ঘর-বাড়ি, কিন্তু নেই কোনও দরজা! দরজা যে কী জিনিস তা জানেই না এই গ্রামের মানুষ! কোনও বাড়িতেই নেই দরজা! কী অবাক হলেন তো? এটাই সত্যি। আর এই গোটা বিষয়টার নেপথ্যে রয়েছেন শনিদেব। মহারাষ্টের শনি শিংনাপুর গ্রামে পা রাখলে নিজের চোখকেই বিশ্বাস হবে না। কারণ আমরা কেউই দরজাবিহিন ঘর-বাড়ি দেখতে অভ্যস্থ নই। এখানকার মানুষদের বিশ্বাস যতদিন শনিদেব তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন, ততদিন এই গ্রামে কখনও চুরি হবে না। কথায় বলে, 'বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর'- আর এই বিশ্বাসের ওপর ভর করেই রয়েছেন শনি শিংনাপুর গ্রামের মানুষরা। ৩০০ বছর আগে থেকে চলে আসছে এই প্রথা।
একাধিক প্রচীন গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়, আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে একটা পাথরের বিশালাকায় খন্ড নদীতে ভাসতে ভাসতে শনি শিংনাপুর গ্রামে এসে পৌঁছায়। গ্রামবাসীরা যখন শীলাখন্ডটি দেখে তাতে লাঠি দিয়ে খোছাতে শুরু করে, তখন হঠাৎই সেই পাথরের খন্ড থেকে রক্ত বেরতে থাকে। আর সেই রাতেই গ্রামের প্রধানের স্বপ্নে আসেন শনিদেব। তিনি বলেন, সেই পাথরের খন্ডটি স্বয়ং তাঁর। তাই সেটি যেন যোগ্য সম্মান স্থাপন করা হয় এবং পুজো শুরু করা হয়। সেই মতো পরদিন সকালে ধুমধাম করে স্থাপন করা হয় সেই শিলাখন্ডটি। শুরু হয় পুজো। শনিদেবকে স্থাপন করার পর গ্রামবাসীদের কোনও এক অজানা কারণে মনে হয়েছিল এই গ্রামে আর কোনও খারাপ কিছু ঘটবে না। কারণ স্বয়ং শনিদেব তাদের রক্ষা করার জন্য এসে গেছেন। সেই থেকে কোনও বাড়িতেই দরজা নেই এবং অবাক করার মতো বিষয় হল এই ৩০০ বছরে এই গ্রামে একবারের জন্যও চুরি হয়নি!
আশির দশকের পরেও এই গ্রামের ব্যাপারে কেউই জানতই না। ৯০ সালের শেষের দিকে এই গ্রামটি নিয়ে একটি ডক্যুমেন্ট্রি ছবি তৈরির পরই শুধু ভারতে নয়, এরপর সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে শনি শিংনাপুর গ্রামের কথা। সেই থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এই গ্রামে আসেন। পুজো দেন এবং শনিদেবের আশীর্বাদ নিয়ে যান।
এক সময় গ্রামবাসীদের উপার্জনের রাস্তা বলতে ছিল একমাত্র আখের চাষ। সেখানে আজ পর্যটন সবকিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে। প্রতি বছর গ্রামাবাসীরা বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন এই পর্যটনের কারণেই। প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্র সরকারের দেওয়া হিসেব অনুসারে শনি শিংনাপুর গ্রামে প্রতিদিন প্রায় ৪০,০০০ হাজার মানুষ আসেন গ্রাম পরিদর্শনে।





Post a Comment